Main Menu

সিলেট রেজিষ্টারী মাঠে সংঘর্ষ, নেপথ্যে দখলদারীত্ব

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট সাব-রেজিস্টি মাঠের সংঘর্ষের নেপথ্যে অবৈধ ও স্থায়ী দখলদারিত্ব। এ দখলদারিত্ব নিয়ে দলিল লেখক সমিতি ও হকার কল্যাণ সমিতির মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অস্থায়ী হকারদের উচ্ছেদ করে মাঠটি স্থায়ীভাবে দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে। মহানগর হকার কল্যান সমিতি নেতৃবৃন্দ এমন অভিযোগ করেন। গত মঙ্গলবার (১০ মে) সিলেট রেজিষ্টারী মাঠের দখল নিয়ে দলিল লেখক ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ এসল্ট মামলায় মহানগর হকার সমিতির ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, আবুল হোসেন, মমিন ও কালাম আহমদ।
সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট রেজিষ্টারী মাঠের পুর্বাংশে দীর্ঘ পাকা স্থায়ী একটি টিনের ঘর রয়েছে দলিল লেখক সমিতির। অনুমোদিত এ ঘরে দলির লেখক সমিতির তিনটি সেডও রয়েছে । মাঠের বাকি অংশটি ছিল একেবারে খালি। বিভিন্ন সময সভা সমাবেশ করা হয়ে থাকে এ মাঠে। গত তত্বাবধায়ক সরকার আ্মলে রাস্তার যানজট নিরসনে রেজিষ্টারী মাঠের দক্ষিনাংশে অস্থায়ীভাবে হকারদের পুনর্বাসন করা হয় । ফলে হকার সমিতির কয়েকজন বাঁেশর খুটি ও পলিথিনের চাল দিয়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা করতে থাকেন ওই মাঠে। এ সুযোগে কোন প্রকার কর্তৃপক্ষীয় অনুমোদন ছাড়াই দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা মাঠের উত্তর পূর্বাংশজুড়ে আরো প্রায় ২১টি কাচা-পাকা স্থায়ী দোকান নির্মান করে কম্পিউটার ফটোস্টেট ট্ইাপসহ দলিল লেখার কাজে ঘরগুলো ব্যবহার করতে শুরু করেন। হকার ও দলিল লেখক সমিতি রেজিষ্টারী মাঠে ক্রমশঃ তাদের দখলদারিত্বের স¤প্রসারন ঘটাতে থাকে। গত ১০মে একটি দোকানের উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে সংঘর্ষ বাধে । দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা হকার মইন উদ্দিনের অস্থায়ী দোকানটি গুড়িয়ে দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ শর্টগানের ২৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কয়েকজন হকার আহত হন। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার এএসআই মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে হকার সমিতির ৩ সদস্যেরে নাম উলে­খ করে অজ্ঞাতনামা ৬০/৭০ জনের বিরুদ্ধে একটি পুলিশ এসল্ট মামলা (নং-০৯(৫)১৬) করেন। মামলার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসারত এজাহার নামীয় ওই তিন হকারকে গ্রেফতার করে।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে হকারদের প্র্য়া ৩০টি অস্থাায়ী দোকান রযেছে রেজিষ্টি মাঠে । পাশাপাশি অনুমোদিত অফিস সেড ছাড়াও দলিল লেখক সমিতিরও অতিরিক্ত আরো ২১টি স্থায়ী দোকান রয়েছে। রেজিষ্টারী মাঠে লেখক সমিতি তাদের একটি স্থায়ী গ্রেজ নির্মান করতে গিযে সংঘর্ষ বাঁধে।
সিলেট মহানগর হকার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শ্রমিকলীগ নেতা রকিব আলীর অভিযোগ, দলিল লেখক সমিতির লোকজন বেআইনীভাবে তাদের দোকান সম্পসারন ও গ্রেজ নির্মান করতে গিয়ে ১০ মে হকার মইন উদ্দিনের অস্থায়ী দোকানটি গুড়িয়ে দেয় । ফলে হকারদের সাথে দলিল লেখকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো অভিযোগ করেন সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ একতরফাভাবে হকারদের আসামী ও গ্রেফতার করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরন করছে। পুলিশ দলিল লেখক সমিতির অবৈধ দখলবাজিতে নগ্নভাবে সহায়তা করছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, হকার কল্যাণ সমিতি একটি রেজিষ্টার্ট বৈধ সমিতি। সিলেট রেজিষ্টারী মাঠে সমিতির সদস্যরা উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। কর্তপক্ষীয় অনুমোদন ও শর্তসাপেক্ষ হকাররা অস্থায়ী দোকান খোলে বসেছেন। হকারদের উচ্ছেদ করে মাঠের গাছ কেটে দলিল লেখকরা নতুন করে অবৈধ গ্রেজ নির্মান করছে বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মাহমদ আলী জানান, মাঠের পূর্বাংশে দীর্ঘ টিনসেড ঘরে দলিল লেখকদের স্থায়ী ৩টি সেড রয়েছে। এর বাইরে মাঠে দলিল লেখকদের যে ২১টি পাকা আধাপাকা দোকান রয়েছে, এগুলোর কর্তৃপক্ষীয় কোন অনুমোদন নেই। তবে এগুলো দলিল লেখারমত ভাল কাজেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গত ১০ মের ঘটনার সম্পর্কে মাহমদ আলী জানান, দলিল লেখকদের ৩নং সেডের সামনের হকার মইন উদ্দিনের দোকান ছিল। দলিল লেখকরা ওই স্থানে মোটর সাইকেল রাখার উদ্দেশ্যে একটি গ্রেজ নির্মানের জন্য দোকানটি সরিয়ে নিতে বললে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের মামলায় দলিল লেখক সমিতির কারো নাম না থাকলেও তাদের কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হযেছে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code