দোয়াবাজারে ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের ভরাডুবি করেছেন এমপি মানিক
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জের দোয়াবাজারে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের কারনে গত ২৩ এপ্রিল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হযেছে। এ কারনে এমপি মুহিবুর রহমান মানিককে দল থেকে বহিস্কারে দাবি জানানো হযেছে।
শুক্রবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। উপজেলার ৬ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীঘ মেনোনীত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাতক-দোয়ারা আসনের বর্তমান সরকার দলীয় সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্যের মাধ্যমে তার পছন্দের প্রাথী দিতে না পারায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ও ক্ষতিসাধনে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। তিনি তার সহযোগী উপজেরা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতিক,ছাতক উপজেলা চেযারম্যান অলিউর রহমান বকুল ও পি এস মোশাহিদ মিলে উপজেলার প্রত্যেকতটি ইউনিয়নে আওযামী লীগ মনোনীত চেযারম্যান পদপ্রার্থীর বিপরীতে একাধিক বিদ্রোহী ও বিএনপি-জামায়তপন্তী প্রার্থী দাঁড় করান এবং তাদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনী প্রচারনা করেন।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেযারম্যান প্রার্থী আব্দুল হামিদের বিপরীতে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও তার সহচররা রাজাকার প্রজন্ম আব্দুল খালিককে বিদ্রোহী প্রার্থী করে তার পক্ষে প্রচারনা করেন।
উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে আওযামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেনের বিপরীতে জসিম উদ্দিন মাস্টারকে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে এমপি মানিক তার পক্ষে নগ্ন প্রচারনা করেন। পরে তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা না দেখে বিএনপি নেতা সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন মিলনের সাথে আঁতাত করে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহিমের পক্ষে কাজ করে নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি ঘটান।
বোগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেযারম্যান প্রার্থী ছিলেন মো. মিলন খান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপরীতে এমপি মানিক বিদ্রোহী প্রার্থী আহমদ আলী আপনকে দাঁড় করান। তার পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা না দেখে পরে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেন এবং নৌকা প্রতেিকর ভরাডুবি ঘটান। বিদ্রোহী প্রার্থী আহমদ আলী আপন পরাজিত হলে এমপি মানিক তাকে চেয়ারম্যানের বদলে বগুলা রুসমত আলী-রামসুন্দর স্কুল এন্ড করেজের সভাপতি পদের জন্য ডিও লেটার প্রদান করেন।
নরসিংপুর ইউনিয়নে আওযামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ তালুকদারকে পরাজিত করার হীন মানসে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক তার বিরীতে ৬জন বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করান। তারা হচ্ছেন, হাবিবুর রহমান, আইয়ুবুর রহমান,নূরুল আমীন,কামরুজ্জামান রুবেল, কবির উদ্দিন ও আব্দুল আলী। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমপি মানিক ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুরি ঘটান।
উপজেলার ল²ীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মুক্তিযোদ্দা পরিবারের সন্তান জহিরুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার পরাজয় ঘটানোর হীন মানসে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও তার সহযোগীরা এর বিপরীতে জামায়াত পরিবারের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিুল হককে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিযে আওয়ামী প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করেন।
ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বানিজ্য করতে না পেরে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউপি নির্বাচনে দলবিরোধী আত্মঘাতি অবস্থান নেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।পাশপাশি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার বোগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো, মিলন খান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার মামুনুর রশীদ,আব্দুল হামিদ,আবুল হোসেন,আব্দুর রশিদ তালুকদার ও জহিরুল ইসলাম প্রমূখ।
Related News
সিলেটে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সন্দেহভাজন দুজনকে আটক
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল পশ্চিমপাড়া গাঙরপার এলাকায়Read More
সিলেটে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেটRead More



Comments are Closed