Main Menu

সিলেটে আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের বানাগাঁওয়ে প্রবাসী আখতার আহমদ চৌধুরীর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতপন্থী এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে।

Manual3 Ad Code

বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন মহানগরের বাগবাড়ি নরশিংটিলার জালালি আবাসিক এলাকার ৪৩ নং বাসার মরহুম ফয়েজ আহমদ চৌধুরীর ছেলে- আখতার আহমদ চৌধুরীর ভাই ফারুক আহমদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান- ২০১৭ সালে তার দুই প্রবাসী ভাই আখতার আহমদ চৌধুরী ও ইকবাল আহমদ চৌধুরী মায়ের নামে বানাগাঁওয়ে স্থানীয় স্বপ্না বেগম নামের এক মহিলার কাছ থেকে ৩৫ শতক জমি ক্রয় করেন। বংশপরম্পরায় এই জমির মালিক ছিলেন নেওয়ারুন্নেছা ও মকরম আলী নামের দুই ভাই-বোন। ২০০৮ সালে তারা স্বপ্না বেগম নামের ওই নারীর কাছে এই ৩৫ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু স্বপ্না বেগম ছিলেন অবিবাহিত। তার স্বামী-সন্তান না থাকার সুযোগে মোগলগাঁও ইউনিয়নের যুগীরগাঁওয়ের জব্বার হাজির ছেলে জামায়াতপন্থী আইনজীবি আব্দুল হান্নানের লোভ পড়ে এই জমির উপর। তিনি আইনের মানুষ হয়েও লোভের বশবর্তী হয়ে জাল কাগজাদি তৈরি করে নেওয়ারুন্নেছা ও মকরম আলীর উত্তরাধিকারী সেজে ওই ৩৫ শতক জায়গা জবরদখল করতে উঠে-পড়ে লাগেন। এ ধারাবাহিকতায় তিনি ২০১২ সালে মাননীয় সহকারী জজ কোম্পানীগঞ্জ আদালতে মিথ্যা স্বত্ব মোকদ্দমা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এটি মিথ্যা মামলা বলে আদালতে প্রমাণ হয় এবং স্বপ্না বেগমের পক্ষে রায় হয়। নিজেকে সবসময় জামায়াত নেতা পরিচয় দানকারী আইনজীবি আব্দুল হান্নান আদালতে হেরে গিয়ে অসহায় স্বপ্না বেগমকে অবিরত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ অবস্থায় স্বপ্না বেগম ২০১৭ সালে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমাদের কাছে এই ৩৫ শতক জমি বিক্রয় করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আহমদ চৌধুরী আরও বলেন- তার দুই ভাই জমি ক্রয় করার পর থেকে অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান তাদের পেছনে লাগে। ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথম তাদের জমির সীমানায় পূঁতে রাখা পিলার রাতের আঁধারে আব্দুল হান্নান তার লোকজন দিয়ে তুলে ফেলে দেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, জেলা প্রশাসক ও জেলা বার আইনজীবি সমিতি বরাবরে আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। এতে আব্দুল হান্নান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তার নির্দেশে প্রায় সময় তার লোকেরা প্রবাসীর জমিতে লাগানো ফসল কেটে নেয়, বার বার পূঁতে রাখা পিলার তুলে ফেলে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশ বসলেও আব্দুল হান্নান উপস্থিত হননি। এছাড়া আদালতে দুটি মামলাও করেন প্রবাসীর ভাই ফারুক আহমদ। কিন্তু এসব মামলার তারিখেও হাজিরা দেননি আব্দুল হান্নান। তিনি বিচার-সালিশ না মেনে বার বার প্রবাসীর জমি জবরদখল করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যান এবং সর্বশেষ গত মাসে আব্দুল হান্নানের নির্দেশে তার সহযোগী বানাগাঁওয়ের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে সোনাফর আলী ওরফে সোনাই (৪৫), একই গ্রামের মনফর আলী ওরফে মনু মিয়ার ছেলে তেরাব আলী ও মৃত খুরশেদ আলীর ছেলে আব্দুল আলী এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন মিলে ওই জমিতে জোরপূর্ব ধানের চারা রোপণ করেন। ওই দিন তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেন- প্রবাসীর পরিবারের কেউ সেখানে গেলে প্রাণে মেরে ফেলবেন। এ ঘটনার পর ফারুক আহমদ চৌধুরী জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব অভিযোপত্র না নিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে জিডি করতে বলেন এবং তিনি অনলাইনে জিডি করেন। কিন্তু তিনি (ওসি) অনলাইন জিডি গ্রহণযোগ্য নয় বলে হাতে লিখে জিডি করতে বলেন। এ হয়রানির পর বিষয়টি ফারুক আহমদ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তৎক্ষণাৎ জালালাবাদ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারও নির্দেশ অমান্য করেন এবং অসহযোগিতা করেন।

Manual3 Ad Code

এ অবস্থায় প্রবাসী আখতার আহমদ চৌধুরীর ভাই ফারুক আহমদ চৌধুরী বা তাদের পরিবারের লোকজন তাদের জায়গায় যেতে পারছেন না। তারা পুলিশি সহায়তা পেতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Manual2 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code