Main Menu

পাত্তা পাচ্ছে না মোদির বিশেষ ঘোষণা, পদত্যাগই চাইছে ‘তেলাপোকা পার্টি’

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ এরই ধারণ করেছে সহিংস রূপ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি। তাদের এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্য আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে এরই মধ্যে।

এমন অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Manual3 Ad Code

কিন্তু, মোদির এই ঘোষণাকে কোনও পাত্তাই দিচ্ছেন না বিক্ষোভকারীরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও না সরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে তেলাপোকা পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসের পরও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে মোদি পুরো দিল্লিই বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।’

একইদিন ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলন ভণ্ডুল করতে বাইরে থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বাইরে থেকে লোক আনা হচ্ছে। আমরা এক মাস ধরে এখানে অবস্থান করছি। এই এক মাসে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু, আন্দোলন বড় হওয়ার পর এখন ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিতে বাইরে থেকে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে বিজেপি।’

Manual7 Ad Code

এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বুধবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতের পরও যন্তর মন্তর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে।

Manual5 Ad Code

এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আবারও জড়ো হয়েছেন বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী।

এর কিছুক্ষণ আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই’।

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ ঘোষণায় আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই একটি অংশ এটি। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

মোদির এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন মোদিই।

মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল লিখেন, ‘আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি আপনিই নষ্ট করেছেন। আপনি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দখল ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন এবং এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন।’

এ সময় মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতেও বলেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code