Main Menu

ছাতকে দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে যুবককে অপহরণ ও মা-ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগ

Manual7 Ad Code

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মাত্র দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে তার মাকে ডেকে এনে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

Manual1 Ad Code

এ ঘটনা নি‌য়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

Manual8 Ad Code

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়ার সঙ্গে একই এলাকার প্রবাসী জুনাব আলীর স্ত্রী সুলতানা বেগমের প্রায় দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই গত ২৭ মে রাতে সংঘটিত হয় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই দিন রাত প্রায় ৮টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের একটি স্থান থেকে জাকারিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে তার মা কুলসুম বেগমকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সেখানে মা-ছেলেকে জিম্মি করে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একই সঙ্গে জাকারিয়ার কাছে থাকা নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে কিংবা আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Manual5 Ad Code

এ ঘটনায় আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন গত ২৯ মে রাতে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সুলতানা বেগম, তার মেয়ে তানিয়া বেগম, মাসুমসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৩০ মে ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ গোলাম সারোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষের কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও গ্রামবাসী অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কুপ্রস্তাব বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে সুলতানা বেগম ও জাকারিয়ার মধ্যে বিরোধ এবং মারামারির ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও আঘাতের আলামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, মামলা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়রাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code