অবশেষে সিলেটে কওমি মাদরাসার চামড়া সংগ্রহের সিদ্ধান্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো। এতে চামড়া সংগ্রহে বড় ধরণের সংকট থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৫ মে) বিকালে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কওমি মাদরাসা ভিত্তিক সংগঠন ‘কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ এর সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে আমরা চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। তবে ইতোমধ্যে ঈদের বন্ধে অনেক মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা নগরবাসীকে অনুরোধ করবো তারা যেন দানের চামড়া নিকটবর্তী মাদরাসায় পৌঁছে দেন। আর যেসব মাদরাসার আবাসিকে শিক্ষার্থীরা রয়েছেন তারা ঈদের দিন চামড়া সংগ্রহ করবেন।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চামড়া একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। জেলা প্রশাসক আমাদের এ বিষয়টি অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া বিক্রির ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া, সংগৃহিত কাঁচা চামড়া পরিবহনে সহযোগিতা ও চামড়া প্রক্রিয়ায় দক্ষ লেবার দিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। আমরা চাই না আমাদের এ শিল্প কোনো সংকটে পড়ুক।’
সরকারের পক্ষ থেকে সিলেট জেলায় প্রায় আড়াইশ মন লবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেগুলো চামড়া ব্যবসায়ী ও চামড়া সংগ্রহের কাজে নিয়োজিতদের বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
গত রবিবার থেকে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যে যার বাড়িতে চলে গেছেন। প্রতিবছর সিলেটের লক্ষাধিক কোরবানি করা হয় এবং কোরবানির চামড়ার বড় অংশই সংগ্রহের কাজ করে কওমি মাদরাসাগুলো।
এদিকে, গত ১১ মে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে কোরবানীর পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দেয় দেশের শীর্ষ কওমি মাদরাসা ভিত্তিক সংগঠন ‘কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
তারা কোরবানির চামড়া সংগ্রহ বর্জনের ডাক দিয়ে জানান, বছরজুড়ে সর্বসাধারণের দান, মৌসুমি চাঁদা, কোরবানির পশুর চামড়া কওমি মাদরাসা পরিচালনায় আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিগত সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়। বর্তমান সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
Related News
সিলেটে মাহফুজা হান্নান এমপি’র নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নানRead More
অবশেষে সিলেটে কওমি মাদরাসার চামড়া সংগ্রহের সিদ্ধান্ত
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কোরবানির চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেRead More



Comments are Closed