ঝড়ে যাদুকাটা নদীতে ভেঙে পড়ল নির্মাণাধীন সেতুর ৫ গার্ডার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর’ পাঁচটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে।
সোমবার (১৭ মে) ভোররাতে উপজেলার বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকায় সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর থাকা গার্ডারগুলো ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে বিকট শব্দে নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানের পিলারের ওপর থেকে পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২২ সালেও একই এলাকায় সেতুর দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়েছিল।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুটিতে এমন ঘটনায় এর অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জনমনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনায় সেতুর গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মানুষের অনেক স্বপ্নের এই সেতুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তমা কনস্ট্রাকশন কাজ ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়। গত কয়েক দিন আগে কিছু শ্রমিক এসে গার্ডারের সাপোর্টে থাকা রড ও পাইপ খুলে নিয়ে যায়। এরপরই ভারসাম্য হারিয়ে গার্ডারগুলো নদীতে পড়ে গেছে।’
সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দায়সারা কাজ করেছে। বারবার গার্ডার ধসে পড়ার ঘটনায় পুরো সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাতের আঁধারে সেতুর পাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় পিলার দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতি আর প্রশাসনের তদারকির অভাবে আমাদের সেতুর স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন।’
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যটন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুটির কাজ পায় ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি।
উল্লেখ্য, ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুতে মোট ১৫টি স্প্যান ও ৭৫টি গার্ডার থাকার কথা। এখন পর্যন্ত ৬০টি গার্ডারের কাজ শেষ হয়েছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনার ফলে নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
Related News
আজ রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ ১ সেপ্টেম্বর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইতিহাসের অন্যতম নৃশংসRead More
জগন্নাথপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চারদিন পর তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগমRead More



Comments are Closed