Main Menu

অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: কম খরচে পড়াশোনা, থাকছে কাজের সুযোগও

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উন্নত জীবনযাত্রা, নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দেশটিকে বেছে নিচ্ছেন।

শেনজেনভুক্ত দেশ হওয়ায় অস্ট্রিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশ ভ্রমণ এবং ভবিষ্যতে চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রেও বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়।

কেন অস্ট্রিয়া?

অস্ট্রিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অনেক বিষয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ থাকায় দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

দেশটির জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রাজ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাগেনফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, সালজবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়, জোহানেস কেপলার বিশ্ববিদ্যালয়, ভিয়েনা প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীবনবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিয়েনা অর্থনীতি ও ব্যবসা বিশ্ববিদ্যালয়।

যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ

অস্ট্রিয়ায় মানবিক, ব্যবসা, অর্থনীতি, আইন, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা, মনোবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশ ও জীবনবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়। এছাড়া ব্যবহারিক ও পেশাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়েও উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

ভর্তির যোগ্যতা

স্নাতক পর্যায়ে আবেদনের জন্য উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে জার্মান ভাষার দক্ষতা প্রয়োজন হয়।

স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ছয় সেমিস্টারের স্নাতক ডিগ্রি বা ১৮০ ইউরোপীয় শিক্ষাঋণ থাকতে হবে। গবেষণার জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হয়।

ভাষাগত দক্ষতা

অস্ট্রিয়ার বেশিরভাগ কোর্স জার্মান ভাষায় পরিচালিত হয়। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে আবেদন করলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদ জমা দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ভাষা পরীক্ষার ফলও লাগতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়া

দেশটিতে সাধারণত দুটি ভর্তি মৌসুম রয়েছে। একটি সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন সেশন এবং অন্যটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন সেশন।

আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন, ভর্তি যোগ্যতা যাচাই, অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, ভাষার দক্ষতার প্রমাণ এবং প্রয়োজন হলে ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়।

টিউশন ফি ও খরচ

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউরোপের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি সেমিস্টারে সাধারণত ৭৫১ দশমিক ৯২ ইউরো টিউশন ফি নির্ধারিত। বছরে এই খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৩ দশমিক ৮৪ ইউরো।

একজন শিক্ষার্থীর মাসিক জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ১ হাজার ৩০০ ইউরো। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।

Manual5 Ad Code

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ

Manual6 Ad Code

বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। এ জন্য কাজের অনুমতিপত্র নিতে হয়। অনুমতি পেলে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। কাজের অনুমতির মেয়াদ এক বছর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়ন করা যায়।

বৃত্তি বা স্কলারশিপের সুযোগ

অস্ট্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, বিমানের ভাড়া, স্বাস্থ্যবিমাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তিও রয়েছে।

Manual6 Ad Code

পড়াশোনা শেষে চাকরি

ডিগ্রি শেষ করার পর চাকরি খোঁজার জন্য শিক্ষার্থীরা বিশেষ আবাসনের অনুমতি পেতে পারেন। চাকরির প্রস্তাব পেলে পূর্ণকালীন কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪০ ঘণ্টা কাজ করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, ভাষাগত দক্ষতা এবং সময়মতো আবেদন করলে অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মজীবন গড়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code