Main Menu

২৮০০ কোটি টাকার মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ড্রোনটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন নৌবাহিনী ১৪ এপ্রিল নিশ্চিত করে যে ৯ এপ্রিল একটি ট্রাইটন মানববিহীন নজরদারি বিমান পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় হারিয়ে গেছে। তবে এটি ভূপাতিত হয়েছে নাকি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে— সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

Manual2 Ad Code

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের ওপর প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি অভিযান চালানোর পর ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফিরছিল। ঠিক সেই সময় এটি জরুরি সংকেত ৭৭০০ পাঠায় এবং প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই এর সংকেত রাডার ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল ও উন্নতমানের নজরদারি ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ২৩৫ থেকে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৮০০ কোটি টাকার বেশি।

Manual3 Ad Code

অত্যধিক ব্যয়ের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি ট্রাইটন সক্রিয় সেবায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে একটি ড্রোন হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় আর্থিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার নর্থরপ গ্রুম্যান নির্মিত ট্রাইটন মূলত দীর্ঘপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোন। এটি একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম।

ড্রোনটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিকালি স্ক্যানড অ্যারে রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরা, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং সিগন্যাল গোয়েন্দা ব্যবস্থা। ফলে এটি সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল, নৌবহরের গতিবিধি এবং সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ড্রোনটি ইরানের দিকেই কিছুটা মোড় নিয়েছিল বলে ফ্লাইট ডেটায় দেখা গেছে। এ কারণে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

এর আগে ২০১৯ সালে ইরান একটি মার্কিন আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নজরদারি ড্রোনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান সত্যিই এই ট্রাইটন ভূপাতিত করে থাকে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করবে। সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

 

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code