মুক্ত প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে ভাঁটফুল
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: ঋতু চক্রের আবর্তনে নয়নাভিরাম ভাঁট ফুলের এক বর্ণিল আয়োজন নিয়ে এখন সেজেছে প্রকৃতি। গ্রামবাংলার প্রান্তর, নদীর পাড়, পতিত জমি কিংবা বনজ ঝোপঝাড়Ñসবখানেই এখন সাদা রঙের নরম সৌন্দর্য নিয়ে ফুটে উঠেছে ভাঁটফুল। প্রকৃতির এই সহজ-সরল উপহার যেন এক নিঃশব্দে ছড়িয়ে দিচ্ছে নির্মল সৌন্দর্য ও প্রশান্তির বার্তা।
ছোট ছোট সাদা ফুলগুলো একসঙ্গে গুচ্ছাকারে ফুটে চারপাশে সৃষ্টি করে এক অনন্য দৃশ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের মাঝে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘের টুকরো। গ্রামীণ জনপদে এই ফুলের উপস্থিতি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সড়কের পাশে, দিঘীর ধারে কিংবা বনে-বাদাড়ে এখন সারি সারি ভাঁট গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে বসন্তে ফোটা ভাঁট ফুল। এই ভাঁট ফুল কিছুটা হলেও প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। বসন্তকাল ভাঁটফুলের ভরা মৌসুম। অনাদরে ফুটলেও এর রুপে মুগ্ধ সকলেই। পলাশ, কৃষ্ণ,মান্দার বসন্তে মানুষের মন রাঙ্গিয়ে মাতোয়ারা করে তোলে আর ভাঁটফুল এনে দেয় সরলতা ও শুভ্যতা।
এখন ভাঁট ফুল সেজেছে বর্ণিল সাজে প্রকৃতিতে। পথের ধারে দু’প্রান্তে প্রাকৃতিকভাবে জম্ম গ্রহণ করে থাকে । যখন পথের ধারে এই ভাঁটফুল ফুটতে থাকে তখন পথের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। ভাট গাছে বসন্ত এলেই ফুল ফুঁটে । সাদা -লাল ফুলের সমাহার বন প্রান্তর আলোকিত করে তোলে। অপরুপ মোহনীয় সৌন্দর্যে সকলের নজর কেড়ে নেয়।
চোখ জুড়ানো বর্ণিল ফুল সবার মনকে নাড়া দেয় খুব গভীরভাবে। গ্রামীণ প্রকৃতির কাছে গেলেই চোখে পড়বে এই বর্ণিল ভাঁট ফুল। যে কোন প্রকৃতি ও ফুল প্রেমী মানুষ এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে। পথের ধারে ভাঁট ফুলের সৌন্দর্য দেখতে ,পদচারীরাও থমকে দাঁড়ায়। প্রতি বছর বসন্তে সাদা পরী হয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয় ভাঁট ফুল।
গ্রামবাংলার মাঠ প্রান্তর শুভ্রতার আলোয় আলোকিত করে বুনো সৌন্দর্য ছড়িয়ে। এর ফুলের থোকা দিয়ে গ্রামের কিশোর ও কিশোরি পাতা দিয়ে তৈরী মুকুটের শোভা বাড়ায় ও খেলার ঘর সাজায়। বাড়ীর আনাচে – কানাচে ফুটে থাকা ভাঁটফুল গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েদের খেলার উপকরণ। শখের বশে বাগানে বা ফুলের টবে কেউ লাগায় না।
স্থানীয় এক লোকজ চিকিৎসক জানান, ভাঁটফুল শুধু সৌন্দর্যেই নয়, এর রয়েছে কিছু ভেষজ গুণও। গ্রামাঞ্চলে অনেকেই ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন ছোটখাটো অসুস্থতায় এই গাছের পাতা ও ফুল ব্যবহার করে থাকেন। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর ব্যবহার সীমিত হলেও লোকজ চিকিৎসায় এর গুরুত্ব এখনও বিদ্যমান।
প্রকৃতিবিদদের মতে, ভাঁটফুল পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। এটি মাটির উর্বরতা রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক। এছাড়া বিভিন্ন পোকামাকড় ও মৌমাছির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস। বসন্ত শেষে এর ঝোঁপ কেটে গ্রামের দরিদ্র মেয়েরা লাকড়ি হিসাবে ব্যবহার করেন।ঔষধি গুন ও বুনো সৌন্দর্য উপভোগে ভাঁটফুল এর সৌন্দর্য পথিক মানুষের মনকে আলোকিত করে তোলে।
Related News
প্রত্মসংগ্রাহক ও গবেষক হাবিবুল্লাহ পাঠান আর নেই
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রত্ম সংগ্রাহক ও গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান (৮৭) আরRead More
শিগগিরই ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঈদ যাত্রীর সুবিধার্থে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারসিটি ট্রেনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবাRead More



Comments are Closed