Main Menu

সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার হাতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব লাঞ্ছিত

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ও ইউপি সদস্য হাতে একই পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম রতন তারই পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকার অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের টেবিলে থাকা মূল্যবান কাগজপত্রসহ সব কিছুই এলোমেলো করে ফেলেন। তখন টেবিলের কাঁচে লেগে চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকার হাত কেটে যায় বলেও তিনি জানান। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

Manual8 Ad Code

এরআগে পরিষদের সচিব রহুল আমিনকেও তার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে তাকে দেখা নেওয়ার হুমকি দেন ওই বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম রতন। তবে ঘটনার সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো ওই ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ জন্যে এ ঘটনার নেপথ্যে তাঁর ইন্ধন রয়েছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা ও তারই পরিষদের সচিব মো. রুহুল আমিন তাঁরা নিজ নিজ কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় আরও ৩-৪ জন ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তখন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং ওই ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম রতন তারা দুইজন একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসেন। তখন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো পরিষদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকেন। আর ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম রতন প্রথমেই গিয়ে ইউপি সচিব রুহুল আমিনের কক্ষে ঢুকেই সচিবকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। পরে তিনি রাগান্বিত হয়ে সেখান থেকে বেড়িয়ে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকার অফিস কক্ষে ঢুকেই একইভাবে চেয়ারম্যানকেও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে চেয়ারম্যানের টেবিলে থাকা মূল্যবান কাগজপত্র সব কিছুই এলোমেলো করে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এসময় টেবিলের কাঁচে লেগে চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকার ডান হাতে আঘাত লেগে কেটে যায়। পরে খবর পেয়ে সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপি আহবায়ক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

Manual1 Ad Code

ইউপি সচিব রুহুল আমিন বলেন, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম রতন আকস্মিকভাবে আমার রুমে ঢুকে আমাকে যেভাবে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন তা আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম রতনের কথার বাহিরে গিয়ে পরিষদের কোনো কাজ যাতে না করা হয়, সে জন্য তিনি আমার রুমে ঢুকে আমাকে যেভাবে লাঞ্ছিত করেছেন তা সত্যিই দুঃখজনক। এসময় টেবিলের কাঁচে লেগে তার ডান হাতের অনেকটাস্থান কেটে গেছে। তবে ঘটনার সময় পরিষদের বারান্দায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো নিরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেও তিনি জানান।

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হামিদুল ইসলাম রতন বলেন, আমি চেয়ারম্যান ও সচিবকে কোনো ধরনের গালমন্দ করিনি। আমি শুধু ঈদে ইউনিয়নের দুঃস্থ অসহায় মানুষজনের জন্য আসা ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করার তাগিদ দিয়েছি মাত্র। এতে তারাই উল্টো আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো আমার সাথে পরিষদে আসেননি। তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তর্কাতর্কির খবর শুনে পরিষদে এসেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো ভূমিকা ছিলনা।

এ বিষয়ে শনিবার রাত ৮ টা ৭ মিনিটে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টোর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তবে তা খতিয়ে দেখব।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code