Main Menu

নতুন দফায় হাইপারসনিক মিসাইল হামলার দাবি ইরানের

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে লড়ছে ইরান। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান হামলা-পাল্টা হামলায় রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এরই মধ্যে নতুন দফার হামলায় ইরান হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার শুরু করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ২৫তম দফার হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান।

Manual1 Ad Code

শনিবার (৭ মার্চ) আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এতে বলা হয়েছে, আইআরজিসি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসোনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। ঘণ্টায় এর গতি ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল। বিশেষ করে ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘ফাত্তাহ-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক।

Manual3 Ad Code

প্রখ্যাত সামরিক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রযুক্তিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই মডেলের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে, যা তেল আবিবের অপরাজেয় প্রতিরক্ষা প্রাচীরের দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল’ (এইচজিভি) প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এতটা বিধ্বংসী ও কার্যকর। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে পারে এবং মাঝ আকাশে প্রয়োজন অনুযায়ী মুহূর্তেই গতিপথ পরিবর্তন বা ‘কৌশলগত ম্যানুভার’ চালাতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত রাডার বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে এর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা এবং সেটিকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কি স্বয়ং এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছেন।

মিলিটারি ওয়াচের প্রতিবেদনে তার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি জানান, বর্তমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য নকশা করা। কিন্তু ফাত্তাহ-২ এর মতো শব্দের গতির ১০ গুণ (ম্যাক-১০) গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হলে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলকে শব্দের অন্তত ৩০ গুণ গতিতে ছুটতে হবে।

বাসেস্কি আরও বলেন, বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণের কারণে বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে এমন দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় অসম্ভব। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত বিদ্যমান ‘অ্যারো’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর মতো ব্যবস্থাগুলো যেখানে ইরানের পুরোনো মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিল, সেখানে এই নতুন হাইপারসনিক প্রযুক্তির সংযোজন পুরো প্রতিরক্ষা সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে ইরানের তেহরান ও ইসফাহানে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক আকারে’ নতুন দফা বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলও। নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই হামলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেইসঙ্গে ইরানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Manual1 Ad Code

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর শনিবার রাতে ‘আমাদের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হবে। মার্কিন বাহিনীর এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোর ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে’।

এছাড়া, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর ইরানে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

Manual1 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code