Main Menu

জাপানে এক বছরে ৫২৭ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

Manual3 Ad Code

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নতুন এক জাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে জাপান সরকার। ক্রমবর্ধমান বুলিং, উদ্বেগ ও শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্রেক্ষাপটে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে শিশুদের উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

Manual5 Ad Code

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মোট ৫২৭ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একই সময়ে জাপানে সামগ্রিক আত্মহত্যার হার কমলেও শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই হার বেড়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক, জুনিয়র হাই, হাই ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বিদ্যালয়গুলোতে বুলিংয়ের রিপোর্টকৃত ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ২২ টিতে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি এবং এটিও ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

Manual3 Ad Code

এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শরতে জাপানের চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এজেন্সি ৩০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প দল গঠন করে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের কাউন্সেলিং বা পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক প্রতিবন্ধকতা কমানো। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিশু মনে করে সাহায্য চাওয়া লজ্জার কিংবা দুর্বলতার বিষয়। এই ধারণা ভাঙতেই কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং শিশু সহায়তাকারী বিভিন্ন সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে কার্টুন ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এসব উপকরণে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—পরামর্শ নেওয়া লজ্জার নয়, দুর্বলতাও নয়। কার্টুন ও ভিডিওগুলো চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এজেন্সির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে যে কেউ সহজেই সেগুলো দেখতে পারে।

Manual3 Ad Code

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টোকিওর চোফুতে জাপান প্রফেশনাল ফুটবল লিগ জে লিগের একটি ম্যাচ চলাকালে এফসি টোকিওর সহযোগিতায় একটি আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে স্থাপিত বুথে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া হয়, তারা সমস্যার কথা কার কাছে বলতে পারে তা ভাবতে। পরিবার, শিক্ষক ইত্যাদি লেখা বাক্সে বল ফেলে তারা নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করে।

অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই বুথে অংশ নেন। প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার পর সে পরিবার ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে। এক মা বলেন, তার সন্তান সব সময় তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে।

Manual5 Ad Code

এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রকল্প দল চলতি মাসের শেষ দিকে জুনিয়র হাই ও হাই স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা শোনার ওপর বিশেষ ক্লাস আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। প্রকল্প দলের এক তরুণ কর্মকর্তা বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চান যে নিজেদের দুশ্চিন্তা নিয়ে কথা বলা একদম স্বাভাবিক এবং সঠিক।

সোর্স: ইন্ডিপেনডেন্ট

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code