Main Menu

রায়হান হত্যা, কারাবন্দি এলাহীর উপস্থিতিতে অধিকতর শুনানী

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বহুল আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলায় বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে অধিকতর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কারাবন্দি একমাত্র আসামী সহকারী উপ-পরিদর্শক (বরখাস্তকৃত) আশেক এলাহীর উপস্থিতিতে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে অধিকতর শুনানী হয়। এসময় আদালত কাঠগড়ায় থাকা আসামী ও তার আনিজীবীর বক্তব্য শুনেন এবং বাদী পক্ষের আইনজীবীদের কাছে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তারাও বিস্তারিত আদালতকে জানান।

এদিকে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের ব্যারিস্টার ফজল চৌধুরী। তিনি বলেন, বুধবার রায়হান হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ছিলো না। এইদিন আদালত অধিকতর শুনানী করেছেন কারাবন্দি আসামী আশেক এলাহীর উপস্থিতিতে। আদালত আমাদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আমরা আদালতে তা বর্ণনা দেই।

রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় অনেক সাক্ষি রয়েছেন। অনেক প্রমাণও রয়েছে। তাই আদালত অধিকতর শুনানী করে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, গত ৩০ নভেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার কারাবন্দি আসামি বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহির যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর এই মামলায় পলাতক থাকা ৫ আসামির যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছিল। মামলার বাকি আসামিরা বর্তমানে জামিন পেয়ে পলাতক রয়েছেন। এরমধ্যে মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া গত ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিনে কারামুক্ত হন, যদিও পরে চেম্বার জজ তার জামিন স্থগিত করে ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন, কিন্তু তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এই মামলার অপর তিন আসামি সাবেক এসআই হাসান উদ্দিন শুরু থেকেই পলাতক, সাবেক কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশীদ জামিন পাওয়ার পর একবার আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর থেকে তারাও পলাতক রয়েছেন। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের আবদুল্লাহ আল নোমানকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি স্বপরিবারের বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

Manual8 Ad Code

জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান উদ্দিনকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার পর মহানগর পুলিশের অনুসন্ধান কমিটি রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এ ঘটনায় ফাড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এসআই আকবরকে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়।

Manual7 Ad Code

২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। এতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা হলেন— সহকারী উপ-পরিদর্শক আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয় এবং মোট ৬৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এখন রায়ের জন্য প্রস্তুত। দীর্ঘ চার বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন চলছে অধিকতর শুনানী। শুনানী সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

Manual8 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code