Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের উদ্বোধন

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‎দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে যাত্রা শুরু করলো ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

‎সাদাপাথর পর্যটনঘাটের সাথেই ৫২ একর জায়গাজুড়ে এই স্থলবন্দরটি চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, আসাম ও ভূটানের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি প্রতি বছর শত কোটি টাকার রাজস্ব আয় হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কোয়ারিকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান থেকে বের হয়ে বিভিন্ন আমদানি-রফতানি কাজ করতে পারবে।

‎জানা যায়, ভোলাগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে চুনাপাথর আমদানি করা হয়ে থাকে। ২০ বছর ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানির অন্যতম রুট সিলেটের ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশনকে ২০১৯ সালে স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণার চার বছর পর জমি অধিগ্রহণসহ নানা ঝামেলা চুকিয়ে গেল বছরের জুন মাসে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থলবন্দর নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

Manual6 Ad Code

‎উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বন্দর শুধু আমদানি-রপ্তানির জন্য নয়, এটি হবে সম্পূর্ণ পর্যটনবান্ধব।

এখানে পর্যটকদের জন্য থাকছে পার্কিং, চিকিৎসাসেবা, খাবারের আয়োজন ও থাকার সুবিধা। বন্দরের অভ্যন্তরে নির্মিত হয়েছে আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ, কাচঘেরা দোতলা পোর্ট ভবন, তিনতলা মাল্টি এজেন্সি ভবন, একটি গেস্ট হাউস, দুটি ডরমিটরি ও একটি ক্লিনিক। প্রতিটি স্থাপনার জন্য আলাদা রাস্তা রাখা হয়েছে।

পর্যটন ও বাণিজ্য— দুই দিকেই গুরুত্ব

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম জানান, এই বন্দর পুরোপুরি পর্যটনবান্ধবভাবে তৈরি করা হয়েছে। সাদাপাথর কেন্দ্রিক পর্যটনের কথা মাথায় রেখে রেস্টুরেন্ট, গেস্ট হাউস, মসজিদ ও মেডিক্যাল সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে, যা শুধু বন্দর ব্যবহারকারীদের নয়, স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।

বন্দর চালু হলে শুধু রাজস্ব বাড়বে না, বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র।

Manual6 Ad Code

বন্দরের কার্যক্রম ও সুবিধা

বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ২৮০-৩০০ ট্রাক চুনাপাথর আমদানি হয়, যা এখন ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।সংশ্লিস্টরাজানান, বন্দর চালু হলে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। বন্দর চালু হলে ট্রাক চলবে বন্দরের নির্ধারিত রুট দিয়ে। ফলে প্রধান সড়কে পর্যটকদের যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

পর্যটকরা সহজেই বন্দর এলাকা অতিক্রম করে পৌঁছাতে পারবেন সাদাপাথরের নৌঘাটে।

ইতিহাস ও নির্মাণ প্রক্রিয়া
২০০৫ সাল থেকে ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে ভারতের খাসি হিলস জেলার মাজাই এলাকা থেকে চুনাপাথর আমদানি শুরু হয়। ২০১৯ সালে এটি দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে অনিক ট্রেডিং করপোরেশন ও মজিদ সন্স অ্যান্ড মাসুদ স্টিল। প্রথমদিকে জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য জটিলতায় কিছুটা বিলম্ব হয়, তবে সবকিছু নিরসনের পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়।

Manual7 Ad Code

চলতি বছরের ৫ আগস্ট কিছু নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি লুটপাটের ঘটনায় কাজ ব্যাহত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত পুনরায় কাজ শুরু করে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তা শেষ করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, লুটপাটে তার প্রায় ৬-৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, তার পরও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে পেরেছেন। মাসুদ স্টিলের রাশেদ আহমদও জানান, তারা সময়মতো কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন।

ভোলাগঞ্জ স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল জানান, বন্দর চালু হলে এলাকার পরিবেশ পাল্টে যাবে। পর্যটকরা থাকার ও খাওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথও খুলে যাবে।

Manual2 Ad Code

এই স্থলবন্দর শুধু বাণিজ্য নয়, পর্যটনের জন্যও হবে অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র— এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code