কেটে ফেলা হলো শাহজালাল (রহ.) মাজারের খেজুর গাছ, ভক্তদের ক্ষোভ
ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের অভ্যন্তরের কয়েকটি খেজুর গাছ নজর কাড়তো ভক্ত দর্শনার্থীদের। এগুলো প্রায় ৫০ বছর আগে মাজার প্রাঙ্গনে রোপন করা হয়েছিলো। তবে এমেধ্যে পাঁচ-ছয়টি খেজুর গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। এনিয়ে মাজারের ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এসব গাছ কেটে ফেলা হয়। মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। আরও তিনটি গাছ কেটে ফেলারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮০ সালের দিকে মাজার মসজিদের সামনে এসব খেজুর গাছ লাগানো হয়েছিল। ওইসব খেজুর গাছের নিচে রাতের বেলায় ভক্তরা অবস্থান করতেন। নামাজের সময় কর্তৃপক্ষ সেখানে আলাদা শামিয়ানা ও ত্রিপল টানিয়ে দিত। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার কারণে আগের মতো সেখানে আর সে পরিবেশ থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেখা গেছে, গাছগুলো কাটার পর গাছের গুঁড়ি মাটির সঙ্গে সমান করা হয়েছে। আরও তিনটি গাছ রয়েছে একই এলাকায়। এসব গাছও কেটে ফেলার শঙ্কায় রয়েছেন ভক্তরা।
এদিকে মাজারের গাছ কাটা নিয়ে ভক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে।
৩৬০ আউলিয়া ভক্ত পরিষদের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চিরচেনা খেজুর গাছগুলো চোখে পড়ত। সিলেটের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ ছিল গাছগুলো। সেখানে অস্থায়ী মসজিদ করা হলে আগের মতো খোলা মাঠ থাকবে না, ভক্তরাও বসতে পারবে না। মসজিদ কমিটির কিছু সদস্যের অতি উৎসাহী ভূমিকার কারণে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, যে স্থানের গাছ কাটা হয়েছে, সেখানে অস্থায়ীভাবে আগে থেকেই নামাজ পড়া হতো। সেজন্য সেখানে শেডও করা হয়েছে। এখন সেই জায়গায় স্থায়ী মসজিদ করতে খেজুরসহ বেশ কয়েকটি পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
মাজার মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এম সোহেল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কমিটির একাধিক বৈঠক হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে অনেকে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু মসজিদ সম্প্রসারণ করতে গেলে গাছগুলো রক্ষা করা যাবে না।
গাছগুলো মাজারের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ উল্লেখ করে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সিলেট জেলা সমন্বয়ক সাদিকুর রহমান সাকী বলেন, টিনশেড ঘর নির্মাণের জন্য পুরোনো খেজুরগাছ কেটে ফেলার যৌক্তিকতা নেই।
মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, মসজিদের সামনের অংশটি খোলা থাকলে সবাই যেমন নামাজ পড়তে পারে, তেমনি হাঁটাবসাও করতে পারে।
Related News
সিলেটে সড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন খাদিমপাড়ার চামেলিভাগ এলাকায় সিলেট-তামাবিলRead More
সিলেটে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালি
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়াRead More



Comments are Closed