Main Menu

বিচারকের স্ত্রী-মেয়েকে সিলেটে উত্ত্যক্ত করতো লিমন, জিডি করায় ছেলেকে হত্যা

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা ও স্ত্রীকে আহত করার ঘটনায় রাজশাহী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লিমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করে।

পরে আহতবস্থায় পুলিশ তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

লিমন মিয়া চার বছর চাকরির পর সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি শাহ মুবাশ্বির।

Manual5 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে ছেলে তাওসিফ রহমানকে (সুমন) ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) আহত হন।

ওসি জানান, গত ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী (৪৪) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ লিমন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সাধারণ ডায়রির প্রেক্ষিতে তাকে জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু, জজ স্যারের স্ত্রী মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে জিডিমূলে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

Manual3 Ad Code

ওসি আরও জানান, জজ স্যারের মেয়ে শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। মূলত মেয়েকে দেখতে বিচারকের স্ত্রী সিলেট এসেছিলেন। তখন লিমন তার পিছু নিয়ে সিলেট ছুটে আসে এবং তাদেরকে ডিস্টার্ব করে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের সহযোগিতা নিতে বাধ্য হন। তবে কী কারণে জজ স্যারের স্ত্রীর সাথে তার ঝামেলা ছিল তা তার জানা নেই।

পুলিশ জানায়, গত ৪ ও ৫ নভেম্বরের ঘটনায় জিডি বা মামলা না করলেও বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি গত ৬ নভেম্বর লিমন মিয়ার বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় জিডি করেন। জিডি করার সাত দিনের মাথায় বিচারকের ভাড়া বাসায় ঢুকে ছেলেকে হত্যা ও লুসিকে জখম করে।

সেই জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ায় লিমন মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর সে মোবাইল নম্বর নেয়। পরিবার আর্থিকভাবে কিছুটা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই লিমন আর্থিক সহযোগিতা নিতেন। এক পর্যায়ে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা চাইতো। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে, সে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি-ধামকি দিতেন। গত ৩ নভেম্বর তার মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদের হত্যা করার হুমকি দেয়। লিটন যে কোনো সময় আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অপর দিকে রাজশাহীতে বিচারকপুত্র খুনের ঘটনার সূত্রপাত সিলেট নগরী থেকে। এ ব্যাপারে সিলেটের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দিচ্ছেন নানা তথ্য।

শাবির শিক্ষার্থীরা জানান, বিচারকের কন্যা তাদের সহপাঠী। তাকে দেখতে বিচারকের স্ত্রী প্রায়ই ক্যাম্পাসে আসতেন। আর এমন খবর পেলেই পিছু নিত ইমন। ক্যাম্পাসে, পথে-ঘাটে ঝামেলার সৃষ্টি করত। মেয়ের বাসা বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী নয়া বাজারে। সেখানে গিয়েও সমস্যা করত ইমন। এ খবর পাওয়ার পর তারা ইমনকে আটক করে পুলিশে দেয়।

সিলেট কোয়ান্টাম মেথডের একজন শিক্ষার্থী জানান, বিচারকের স্ত্রী ও বহিস্কৃত সেনা সদস্য ইমন কোয়ান্টামে মেডিটেশনের কোর্স করেন। সেখানে তাদের দু’জনের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভালো বোঝাপড়া লক্ষ্য করা গেছে। তবে পরবর্তীতে কি থেকে কি হয়েছে সেটা জানিনা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, ঘাতক আটক আছে। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন ও একই বিভাগের প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী এই ময়নাতদন্ত করেন। এতে তাদের প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।

Manual8 Ad Code

ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, তাওসিফের ডান উরু, ডান পা ও বাহুতে ধারালো ও চোখে অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এই তিনটি জায়গায় রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

Manual6 Ad Code

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাওসিফের গলায় কালশিরা দাগ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেন, নরম কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের কারণে এই দাগটি হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর প্রধান কারণ নয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা একই সময়ে হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code