Main Menu

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন—শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশক্রমে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২৩-২৪) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারকে মারধর করেন অভিযুক্ত ওই দুই নেতা। ঘটনার সূত্রপাত হয় শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে খাইরুলের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা খাইরুলের ওপর চড়াও হন। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা সবাই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ বলেন, এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি। হলের সমস্যা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সঙ্গে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান।

এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলামের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি থেকে ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানানো হয়। রাত সাড়ে ৩টায় উপাচার্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

ইতোমধ্যে সামাজিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন সিকদার। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed