বালু লুটপাট, সিলেটে একইদিনে ২০ জনের কারাদন্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সিলেটের দুই জেলায় একইদিনে ২০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ট্রাক-নৌকা ভর্তি অবৈধ বালু, নদী পাড় কেটে চলছিল দিনের পর দিন লুটপাট। দিনের বেলা নদী কেটে, রাতের আঁধারে বালু পাচার; অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থামলো সেই তাণ্ডব! ভ্রাম্যমাণ আদালতের দ্রুত বিচার, সঙ্গে সঙ্গে কারাদণ্ড।
সিলেট বিভাগের দুই জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত ২০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে প্রশাসন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পৃথক অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলো এই ২০ জনকে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জের সিলিকা বালু আর তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী এই দুই স্থানে দীর্ঘদিন থেকে দিনের বেলা নদী খনন ও রাতের আঁধারে বালু পাচার চলছিল। সেনাবাহিনী-পুলিশের সমন্বয়ে চলে ঘন্টাব্যাপী অভিযান, ট্রাক-নৌকা ভর্তি বালু জব্দ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা রায়ে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের বদরগাজী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। বিষয়টি নজরে এলে শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে হাতেনাতে আটক করা হয় ১৪ জনকে। ট্রাক ভর্তি বালুসহ ধরা পড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শফিকুল ইসলাম প্রত্যেককে ১ মাস করে কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নুর উদ্দিন (৩৩), জাকারিয়া (২৬), শাহজাহান মিয়া (৩২), শাহীন মিয়া (২১), ওয়াহিদ মিয়া (২৩), আব্দুল করিম জুনেদ (১৯), মো. ইউসুফ (২৩), মো. এনামুল হক (১৯), মো. জামাল মিয়া (২১), রিপন মিয়া (২৪), নয়ন মিয়া (২২), মো. আতর আলী (৪২), মো. নুরুল ইসলাম (৪৩), মো. সারাজ মিয়া (৩০)।
চুনারুঘাট উপজেলার ইউএনও শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে একইদিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আরও ৬ জনকে। লাউড়েরগড় এলাকায় নদী পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর আওতায় প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আলী হোসেন (২২), আবুল বাসার (৩০), নবীর হোসেন (২০), সাজ্জাদ মিয়া (২৩), শাকিল আহমেদ (২৮) ও হৃদয় শাহ (২৪)। অভিযানে আনুমানিক ৩০০ ঘনফুট বালু ও দুটি স্টিলের নৌকাও জব্দ করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক জানান, ‘নদী পাড় কেটে বালু উত্তোলনে নদী ও এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে। এ ধরনের অভিযান চলবে নিয়মিতভাবে।’
Related News
সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছেRead More
সুনামগঞ্জে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে খুন হলেন মা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে গলা কাটা অবস্থায়Read More



Comments are Closed