Main Menu

স্কপ নেতা আবু জাফর ও প্রনব জ্যোতি পালসহ রিকশা শ্রমিকদেরকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও মুক্তির দাবি

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান উচ্ছেদের অভিযান চালায় সিলেটের প্রশাসন। এ অন্যায্য অযৌক্তিক অভিযানের বিরুদ্ধে রিকশা শ্রমিকরা সোচ্চার হয়ে রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ, নীতিমালা প্রনয়ণ সহ রিকশা শ্রমিকদের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ করে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখা কর্মসূচী শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলা সদস্য সচিব আবু জাফর সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রণব জ্যোতি পালকে সিলেট পুলিশ কমিশনার আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে পুরাতন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে থানা হাজতে রিকশা শ্রমিক সৈকত ও রনি দেখা করতে গেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়।

Manual7 Ad Code

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সিলেট জেলা আহবায়ক সুরমান আলী ও সদস্য মো. ছাদেক মিয়া সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যাটারি চালিত যানবাহন শ্রমিকদের আন্দোলন যার সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা। এ আন্দোলনে কোন সেক্টরের শ্রমিক কিংবা যাত্রী সাধারণ কেউই প্রতিপক্ষ নয়। অথচ একটি স্বার্থন্বেষী মহল শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ ঘটিয়ে তাদের স্বীয় স্বার্থ হাসিল করতে চায়। ঠিক এ সময়ে সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ সরকারের ঘোষিত নীতিমালার পরিপন্থী। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা নিজে স্বীকার করেন হটাৎ করেই হাজার হাজার রিকশা শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান না করে উচ্ছেদ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। সড়ক দূর্ঘটনার জন্য কেবল ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে দায়ী করা অযৌক্তিক।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী দেশে ৮৫ শতাংশ দূর্ঘটনা ঘটে অন্যান্য পরিবহন দ্বারা, আর মাত্র ১ শতাংশ ঘটে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে। নেতৃবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার বন্দর বাজারে যে অনাকাঙ্খিত সিএনজি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে এর সাথে কোনো শ্রমিকের সংশ্লিষ্টতা ছিলনা।

Manual3 Ad Code

নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের শ্রেণিগত অবস্থান থেকে প্রত্যেক শ্রমিকদের উচিত তাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া কোনো ধরনের উস্কানী কিংবা ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যে সেক্টরের সাথে জড়িয়ে আছে লক্ষাধিক পরিবার সেই অটোরিকশা উচ্ছেদ কোনো যৌক্তিক সমাধান নয়। দূর্ঘটনা এবং যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘বৈদ্যুতিক থ্রী-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দরিদ্র জনগণ সহায় সম্বল বিক্রি করে, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক কিনে যখন আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তখন কখনো যানজট, কখনো দূর্ঘটনা, বিদ্যুৎ অপচয়ের অজুহাত তুলে এই বাহনগুলো উচ্ছেদ অভিযান চলে। এই রিকশাগুলো তো কোনো শ্রমিক তৈরি করেনি; জীবনের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে কিনে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্ঠা করছে। যদি এই রিকশা অবৈধই হবে তাহলে কেন এগুলো বিক্রি করা হলো বা এখনও কেন বিক্রি করা হচ্ছে? আমদানিকারক প্রতিষ্টান ও শোরুমগুলোতে এসব বাহনের অবাধ বিক্রি চললেও সেখানে এখনও কেন নিয়ন্ত্রণ বা অভিযান নেই?

Manual5 Ad Code

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতাদের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানান এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের ন্যায় সংগত দাবি দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code