Main Menu

সিলেটে প্রাইভেট কার থেকে স্ত্রীকে ফেলে দিয়ে স্বামীর চম্পট

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে প্রাইভেট কার থেকে স্ত্রীকে ফেলে দিয়ে চম্পট দিয়েছেন স্বামী। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেছেন কয়েকজন পথচারী।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে এ ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লামাবাজার থেকে জিতু মিয়ার পয়েন্টের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেট কার। কারটি থেকে নারী কন্ঠে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন যুবক কারটিকে ধাওয়া করে। লামাবাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর কারটি থেকে এক যুবতিকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে কারটি দ্রুত সটকে পড়ে।

মোটরসাইকেল আরোহীরা যুবতিটিকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত পৌণে ১টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা ট্রিপল নাইনে কল দিলেও কোনো সাঁড়া পাননি বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীদের একজন।

পরে মঙ্গলবার বিকেলে যুবতির সাথে আলাপ হয় সাংবাদিকদের। তিনি জানান, সকালে পুলিশ গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অভিযোগ দায়ের করলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার নাম রিয়া। বাবা মা নেই। মামার বাসা নগরীর হাওয়াপাড়ায়। সেখানেই তিনি থাকতেন। ৬ মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেন নগরীর উপশহর এলাকার সোহেল নামক এক যুবকের সাথে।

ওই যুবক তাকে নিয়ে মৌলভীবাজারে থাকতেন। কয়েক মাস সংসার করার পর যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন সোহেল। তবে তিনি অপারগ হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন সোহেল।

অতিসম্প্রতি তিনি জানতে পারেন সোহেল আগে থেকেই বিবাহিত এবং ১২ বছরের একটি ছেলের পিতা। এরপর থেকে সংসারে ঝুটঝামেলা লেগেই থাকতো।

কয়েকদিন আগে তিনি সিলেট শহরে তার এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে আসেন। সোহেল তাকে নানা হুমকি ধমকি দিতে থাকে।

সোমবার রাতে সে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। তিনি দেখা করার পর তাকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে মারধোর করতে থাকে। তার মুখেও বারবার আঘাত করে। তিনি মারাত্মক আহত অবস্থায় ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এরপর তাকে প্রাইভেট কার থেকে লাত্থি মেরে ফেলে দিয়ে দ্রুত চলে যায় সোহেল।

তিনি আরও জানান, সকালে তার স্বজনরাও এসেছিলেন। তারা পুলিশের সাথে কথা বলেছেন।

তবে এ ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার ডিউটি অফিসার ওসি (তদন্ত) হাবিব জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ কেউ দায়ের করেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তরুণীর স্বামী সোহেল সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন রিয়া পরকিয়ায় লিপ্ত। তাকে সুন্দর দেখে তিনি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু পরকীয়ার বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে তিনি তার মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করতে চেয়েছিলেন।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। আর আগের স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য গোপন করে রিয়াকে বিয়ে ব্যাপারে বলেছেন, রিয়া সব জেনেশুনেই তার সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন।

Share





Related News

Comments are Closed