পরীক্ষায় ফেল করায় সিলেটে স্কলার্সহোমের শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকা থেকে এক কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আজমান আহমদ (২০) ওই এলাকার রাশেদ আহমদের ছেলে।
আজমান নগরীর স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আজমান ২০২৬ সালের এইচএসসি’র প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় পাঁচ বিষয়ে ফেল করেছে বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, আজমান আহমদ এবার একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃৃতকার্য হয়েছিল। অকৃতকার্যদেরকে তখন বলা হয়েছিল প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে না পারলে কলেজ থেকে চলে যেতে হবে।
এ মাসের ৪ তারিখ প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষার ফল বের হয়। তাতেও সে ৬ বিষয়ে ফেল করে। এর পর থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা কলেজ শাখায় নানাভাবে অনুরোধ করছে যেনো কলেজ থেকে টিসি না দেওয়া হয়।
বুধবার আজমান টিসির বিষয়ে কথা বলতে কলেজে গিয়েছিলো। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনমনীয়তা দেখায়। এরপর সে কলেজ থেকে ফিরে কলেজ ড্রেস পড়া অবস্থাতেই নিজ রুমে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠি জানান, একাধিক বিষয়ে ফেল করায় কলেজ শাখা থেকে টিসি দিয়ে দেওয়ার নিয়ম করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই টিসির ভয়েই সে কলেজ ড্রেস পড়েই আত্মহত্যা করেছে।
এসব অভিযোগ করেছে ছাত্রটির বোনও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষায় ফেল করার খবর পেয়ে আজমান নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে আজমান আহমেদের পিতা রাশেদ আহমেদ বলেন, প্রি-টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের ডাকেন। ভিকটিমের পিতা মাতা দুই তিনদিন আগে কলেজে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করলে প্রি-টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় তাকে তারা আগামী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিবেন না বলে জানান। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে অমনোযোগিতা এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেন। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় তার অভিভাবকদের মনও খারাপ হয়। এর আগে আজমানের পিতা তাকে অন্য একটি কলেজে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে আজমান বুধবার কলেজে গিয়ে কলেজ থেকে ফিরে বাসায় এসে আত্মহত্যা করে। এ বিষয়ে কলেজের প্রিন্সিপালসহ কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। তিনি জানান, শিক্ষকগণ এমন বকা দেন নাই যে তার জন্য অভিযোগ করা যায়।
এদিকে আজমানের মত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার সহপাঠী ও ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এমনকি অনেক সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও স্কলার্সহোমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাকেদের সাথে খারাপ আচরণ, পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক না থাকা, শিক্ষার্থী খারাপ করলে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, ‘তিনি জানান, সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকায় নিজ বাসার ভেন্টিলেটরের সাথে নাইলনের তার পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া আজমান আহমেদ দানিয়েল (১৯) নামের এক স্কুল ছাত্রের লাশ বুধবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন এবং এই ঘটনায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।’
Related News
গৃহকর্মীর সাথে দেখা করতে এসে তিন খুন, যেভাবে রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছেRead More
সিলেটে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় আটক ১, তছনছ বাসা-খোয়া গেছে কাগজপত্র
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রায়নগরে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় বাবুলRead More



Comments are Closed