Main Menu

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শাটডাউন, অধ্যক্ষসহ ২০ জন অবরুদ্ধ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। এতে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলছিল। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল- এই তিনটি বিভাগ রয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের বেশির ভাগই আজকের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ফটকে তালা থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া সেখানে আরও ছয় থেকে সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও অবরুদ্ধ রয়েছেন। শিক্ষকদের সাড়ে নয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ওই ভবনেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি ও আন্দোলন করেও এ বিষয়ে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে তাঁদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চতর ডিগ্রির মর্যাদা ও স্বকীয়তা রক্ষায় অবিলম্বে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করতে হবে।

তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন চলাকালে রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোমবারের (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। নতুন করে যাঁকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস ‘শাটডাউন’ থাকবে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেতে চান।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে অন্তত ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। বিষয়টি তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবির কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একদিকে যেমন একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এসেছে, অন্যদিকে অধ্যক্ষ বদলির আদেশও নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Share





Related News

Comments are Closed