অবৈধভাবে বালু উক্তোলনে ‘শেরপুর সেতু’ ধসে পড়ার শঙ্কা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যদিও কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগর অংশে বালু উত্তোলনের সরকারি কোনো অনুমতি নেই। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ওসমানীনগর উপজেলার অংশ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব বালু উত্তোলনে ব্যবহার হয় বিশাল আকারের ড্রেজার মেশিন। আর এসব মেশিনের শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কুশিয়ারা নদীর উপরের শেরপুর সেতু।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী আব্দুল জুনায়েদসহ বেশ কয়েকজন প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন করেছেন। ফলে শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা ও বালু উত্তোলনে হুমকির মধ্যে রয়েছে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর সেতু। এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে আব্দুল জুনায়েদকে অভিযুক্ত করে এলাকাবাসীর পক্ষে গত ৭ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ওই দিনই অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনে স্থানীয় সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মিত শেরপুর ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে বিশাল জনবল ব্যবহার করে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন আব্দুল জুনায়েদ। দিন ও রাতে একই স্থানে বালু উত্তোলন ও আনলোডে বিশাল আকারের ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করছেন। ফলে ড্রেজারের শব্দ দূষণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীদের পড়া লেখায় ক্ষতি ও নির্ঘুম রাত কটাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া অসুস্থ ও বৃদ্ধ মানুষের নানা শারিরিক সমস্যার তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্যেখ করা হয়।
কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ও একাধিক গ্রামের রাস্তায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ব্রিজের নিচে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় বল্কসহ ব্রিজের বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। নদীর তীরবর্তী একাধিক রাস্তা ভেঙ্গে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে, হুমকিতে রয়েছে নতুন বস্তি গ্রাম। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর ব্রিজসহ একাধিক মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অবৈধ বালু পরিবহন করায় নতুন বস্তি, বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, ড্রেজার মেশিনের পাইপ দিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পার্শে আইলেন্ট সৃষ্টি করায় সব সময় পানি জমাট থাকে। পনি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ছোট-বড় যানবাহনসহ স্থানীয়দের যাতায়েতে নানা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জুনায়েদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে, আব্দুল জুনায়েদের ড্রেজার মেশিনে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর ব্রিজের অংশ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি মোবাইল ফোনে স্বীকার করেছেন মুনু মিয়া নামের একজন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের আইনী নিদের্শনা রয়েছি কি না? জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যানকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে প্রশাসন ব্যবস্থ নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুশিয়ারা নদীতে তদারকি অব্যাহত রয়েছে।’
Related News
বিয়ানীবাজারে যমুনা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রামধা বাজারে অভিযান চালিয়েRead More
সিলেট সীমান্তে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজারRead More



Comments are Closed