Main Menu

যে দেশে ভ্রমণ করতে ভাড়া কমছে বিমানের

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে উড়োজাহাজের টিকিট ভাড়া ৭৫ শতাংশ কমেছে। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা বা দাম্মামের যে রুটগুলোতে একমুখী ভাড়া লাখ টাকা ছাড়িয়েছিল তা এখন ৪৮ থেকে ৫০ হাজারেই পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারের হস্তক্ষেপ ও কঠোর নিয়মকানুন বাস্তবায়নের ফলে টিকিটের দাম এতোটা কমানো গেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

Manual3 Ad Code

গত ১৯ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আটাব জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে যাত্রীদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের প্রধান শহরগুলোতে যেতে উড়োজাহাজের টিকিটে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। গ্রুপ বুকিং স্কিমের অধীনে টিকিটের দাম ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। তবে সরকারের নজরদারি ও প্রচেষ্টায় টিকিটের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে। এখন ভাড়া ৫০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এমনকি কিছু এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদের মতো রুটে টিকিট ভাড়া কমিয়ে ৩৫ হাজার টাকায় দিচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনার ফলে টিকিট ‘ব্লক’ করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর যে ধারা চলছিল তা বন্ধ হওয়ার ফলে এই পরিবর্তন এসেছে।

Manual8 Ad Code

আকাশপথের যাত্রায় টিকেটের উচ্চমূল্য কমানো ও এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি ১০ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে টিকিট বুকিংয়ের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা বরাদ্দ করা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুকিং বাতিল করতে বলা হয়। পাশাপাশি গ্রুপ বুকিংয়ের নামে কোনো এয়ারলাইন্সের অনেকগুলো টিকিট একসঙ্গে ব্লক করা হলে পরে সাতদিনের মধ্যে যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বরসহ তা বিক্রি নিশ্চিত করার তথ্য দিতে বলা হয়। তা না হলে পরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেসব টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করতে হবে এয়ারলাইন্সকে।

আটাব বলছে, সরকারি পরিপত্রে যাত্রীর নাম, পাসপোর্টের বিবরণ ও পাসপোর্টের ফটোকপি দিয়ে টিকিট বুকিংয়ের নির্দেশনার ফলে যেসব টিকেট নাম ছাড়া ‘ব্লক’ করে রাখা হত সেগুলো এয়ারলাইন্সগুলো ‘ওপেন’ করে দেয়। ফলে কম্পিউটার রিজারভেশন সিস্টেমে সিট সহজলভ্য হয়ে যায়। এতে এখন ট্রাভেল এজেন্সি ও যাত্রীরা ফ্লাইটে সিট খালি আছে কি না এবং কত ভাড়া তা অনলাইনে দেখতে পাচ্ছেন। সব দেখেশুনে চাহিদা মত টিকিট বুকিং করতে পারছেন যাত্রী এবং এজেন্সিগুলো।

এ পরিবর্তনের ফলে বাজারে টিকিটের যে কৃত্রিম সংকট ছিল সেটা অনেকাংশে কমে গেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। বলছে, ফ্লাইটের সিট সহজলভ্য হওয়ার কারণে এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে এবং টিকিটের মূল্য কমে এসেছে।

আটাব-এর মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ বলেন, এই উদ্যোগ কেবল যাত্রীদের জন্যই নয়, ভ্রমণ শিল্পের জন্যও উপকারী। কারণ, এটি আরো স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করবে। এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।

আফসিয়া এ বিষয়ে সরকারি তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলোকে আগের চর্চায় ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হলে কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মকানুন প্রয়োগ অপরিহার্য।

ভবিষ্যতে বাজারের ভারসাম্য বজায় ও ভোক্তাদের স্ফীত মূল্য থেকে রক্ষা করতে অতিরিক্ত আইন ও বিধিমালারও সুপারিশ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ যদি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে এটি কেবল উড়োজাহাজের টিকিট শিল্পে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে না, বরং বাংলাদেশি যাত্রীরা, বিশেষ করে অভিবাসী কর্মীরা, প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্রমণ থেকে উপকৃত হবে।

Manual1 Ad Code

বিবৃতিতে আটাব উড়োজাহাজের টিকিটের মূল্য নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব বেগম নাসরিন জাহানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

এর আগে চলতি বছর ২৬ জানুয়ারি আটাব এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে টিকিটের ক্রমবর্ধমান মূল্য ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code