Main Menu

কী আছে যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতিতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের সরকার সম্প্রতি ‘রিস্টোরিং কন্ট্রোল ওভার দ্য ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন বিধিনিষেধ ও শর্তসমূহ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কী আছে ৮২ পাতার এই হোয়াইট পেপারে?

স্থায়ী বসবাসের শর্ত কঠোর হচ্ছে

বর্তমানে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর অভিবাসীরা স্থায়ী বসবাসের (Settlement) আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নিয়ম অনুসারে, এই সময়সীমা ১০ বছর করা হবে। তবে সমাজে যারা বিশেষ অবদান রাখবেন বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে জড়িত, তাদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে।

দক্ষ শ্রমিক বা স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার মানদণ্ড বৃদ্ধি

যাঁরা যুক্তরাজ্যে কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আবেদন করা আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। ন্যূনতম বেতনসীমা ২৬,২০০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ৩৮,৭০০ পাউন্ড করা হচ্ছে যা নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়াবে।

এছাড়া, আগে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় আইইএলটিএসের স্কোর ‘B1’ লেভেল থাকলেও নতুন করে তা ‘B2’ লেভেল করা হয়েছে। একইসাথে গ্র্যাজুয়েট-লেভেল যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একেবারে বন্ধ হচ্ছে কেয়ার ভিসা

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সেক্টরে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ আরো সীমিত হচ্ছে। নতুন নীতির অধীনে, ২০২৮ সালের মধ্যে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

এছাড়াও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্তদের উপরও। এ সময়ের মধ্যে অবশ্য ভিসার ধরণ পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নিয়ম

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন আসছে। পড়াশোনা শেষে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ দুই বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিসা ফি ৬ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

একইসাথে শুধুমাত্র পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনার অনুমতি থাকবে, অন্যদের জন্য এই সুযোগ বন্ধই থাকছে।

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের (ডিপেনডেন্ট) শর্ত কঠোর হচ্ছে

যাঁরা পরিবারভিত্তিক ভিসা পেতে চান, অর্থাৎ ডিপেনডেন্ট নিয়ে যেতে চান, তাঁদের আয়সীমা ১৮,৬০০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৩৮,৭০০ পাউন্ড করা হয়েছে। এতে নিম্ন-আয়ের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পরিবার নিয়ে বসবাস করা আরও কঠিন হবে।

ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোর

ছোটখাটো অপরাধের জন্যও যুক্তরাজ্য থেকে নির্বাসিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ থাকলে মিলবে না দ্বিতীয় কোন সুযোগ।

কমবে ভিসা প্রদানের হার

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক নেট মাইগ্রেশন সংখ্যা প্রায় ৭২৮,০০০, যা সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ৩,০০,০০০-এ কমানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে যুক্তরাজ্য এখন আগের থেকেও আরো কড়াকড়িভাবে ভিসা প্রদানের হার কমাবে।

নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, কর্মী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা আইনজ্ঞদের। বিশেষত, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ও পরিবারভিত্তিক অভিবাসনে কঠোর শর্তাবলী আরোপের ফলে অনেকের জন্য যুক্তরাজ্যে অভিবাসন জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন আইন সলিসিটর ও ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সাধারণত যুক্তরাজ্য সরাসরি আইন পাশ করলেও এবার একটি হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছে যাতে ভবিষ্যতের ইমিগ্রেশন কেমন হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত এই নতুন আইনের বাস্তবায়নে কোন নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবে যেদিন ঘোষণা হবে, সেদিনের পর থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশী সবাইকে এই আইন মানতে হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed