বড়শালায় বলাৎকারের অভিযোগে ইমাম আব্দুল হেকিমকে বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট এয়ারপোর্ট গেইটের মুখ বড়শলা শাহজালাল জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল হেকিম কে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
চরিত্রহীন লম্পট ইমাম আব্দুল হেকিম কোন সনদধারী আলেম নয়। মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সিলেট এয়ারপোর্ট গেইটের মুখ বড়শলা শাহজালাল জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে বিগত আড়াই তিন বছর থেকে ইমামতি করে আসছে। বছর খানেক পূর্বে মক্তবের একটি শিশুর সাথে বলাৎকারের ঘটনা সংঘটিত হলে শিশুর অভিভাবক খোকন মিয়া সুবিচারের আশায় এলাকার মুরব্বিদের ধারে ধারে ঘুরে ইমামের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন, কিন্তু জনৈক আওয়ামীলীগ নেতা ডজন খানেক মামলার আসামি ছদরুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং মাস্তানী দেখিয়ে এই ইমাম কে বিদায় দিতে দেয়নি। এলাকার মুরব্বিগণ এবং পঞ্চায়েতবাসী ছদরুলের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও দলীয় প্রভাবের কারণে ভয়ে মুখ খুলেনি।
গত ২ মাস আগে এই এলাকার কনু মিয়া নামক জনৈক ব্যক্তির ভাগিনা মক্তবে পড়ুয়া আরেক ছেলের সাথে ইমাম আব্দুল হেকিম আবারও বলাৎকারের ঘটনা ঘটায়। নির্যাতনের শিকার ছেলেটি তার আত্মীয় স্বজনের কাছে গিয়ে ঘটনা বললে তারা উত্তেজিত হয়ে যান, কিন্তু ইমামের প্রশ্রয়দাতা ব্যক্তি ছদরুলের গোঁয়ার্তুমির কারণে তারা সুষ্ঠু বিচার পাননি। ধীরে ধীরে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে।
সর্বশেষ গত ২৭ রমযান ২৮ মার্চ তারাবীহ নামাজের পর নির্যাতিত শিশুর একজন অভিভাবক ইমাম কে এমন অনৈতিক কাজ কেন করেছেন জানতে চাইলে ইমাম উত্তেজিত হয়ে তার পক্ষের ২/১ জন কে সাথে নিয়ে অভিযোগকারী ব্যাক্তির উপর চড়াও হতে উদ্যত হয়। এমন সময় উপস্থিত মুসল্লিরা ইমামের এহেন আচরণে পাল্টা উত্তেজিত হয়ে যান, আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসময় ইমামকে উত্তেজিত জনতা কিছু উত্তম মাধ্যম দেয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে কয়েকজন মুরব্বি পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট থানায় খবর দিলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গণধোলাই থেকে রক্ষা করতে ইমাম আব্দুল হেকিম কে থানা হেফাজতে নিয়ে মসজিদের ইমাম পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
এলাকার ধর্মপ্রাণ জনতা এই চরিত্রহীন লম্পট ইমাম আব্দুল হেকিম-কে কোর্টে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কারণে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম আব্দুল হেকিম কয়েক বছর আগে কোম্পানীগঞ্জের বর্ণী গ্রামের মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে ছিলো এবং সেখান থেকেও একই অভিযোগে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে বলে জানা যায়। এলাকার জনগণের দাবি এই চরিত্রহীন লম্পট ইমাম আব্দুল হেকিম কে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। অভিযুক্ত আব্দুল হেকিম এর গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার ছোটদেশ গ্রামে। বিজ্ঞপ্তি
Related News
শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবসে “স্মরণে বাউল করিম” অনুষ্ঠিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখারRead More
মুফাসসিরগণ পথহারা জাতির পথ প্রদর্শক: অ্যাডভোকেট জুবায়ের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলRead More



Comments are Closed