Main Menu

কোটা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে রিস্কা চালকের মৃত্যু, তিন সন্তান নিয়ে স্ত্রীর মানবেতন জীবন যাপন

Manual3 Ad Code

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে ফেরার পথে অটোরিসকা চালক আমির হোসেন তালুকদার পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার নিহতের ঘটনায় তিন সন্তান নিয়ে মহাবিপাকে পরেছেন স্ত্রী মোসাঃ আন্নি আক্তার। কর্মক্ষম স্বামীকে হারিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস কাছে সহায়তার দাবী করেছেন স্বামী হারা স্ত্রী আন্নি আক্তার। নিহত আমির হোসেন তালুকদারের স্ত্রী মোসাঃ আন্নি আক্তার কান্না জনিত কন্ঠে বলেন, আমার আর কিছুই রইলো না। স্বামী পুলিশের গুলিতে মারা না গিয়ে আমি মারা গেলে অনেক ভালো হতো। এখন আমার তিন সন্তানকে কে ভরন পোষন দিবে? আমি কিভাবে তিন সন্তানকে লালন পালন করবো তা ভেবে পাচ্ছি না ? প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস কাছে সন্তানদের ভরণ পোষন ও লালন পালনের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবী জানাই।

Manual7 Ad Code

জানাগেছে, তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের মৃত্যু আলতাফ তালুকদারের ছেলে আমির হোসেন তালুকদার ছোট বেলায় কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান। ২০১৬ সালে মুন্সিগঞ্জের মেয়ে মোসাঃ আন্নি আক্তারকে বিয়ে করেন আমির। ঢাকার রামপুরা টিভি সেন্টারের পাশে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার আরমান (৬), আরিয়ান (৪) ও আমেনা (১) নামের তিনটি সন্তান রয়েছে। গত ১৯ জুলাই জুমার নামাজ আদায় করতে রামপুরা মোল্লা টাওয়ার সংলগ্ন মসজিদে যান। নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফিরছিল আমির তালুকদার। ওই সময় কোটা আন্দোলনকারী ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলছিল। পুলিশের তিনটি গুলি এসে তার শরীরে বৃদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হয়।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়না তদন্ত ছাড়াই গ্রামের বাড়ী তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। কবর দেয়ার দুই মাস পরে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করে । স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে মহাবিপাকে পরেছেন স্ত্রী মোসাঃ আন্নি আক্তার। বর্তমান তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস এর কাছে সহায়তার দাবী জানিয়েছেন স্বামী হারা আন্নি আক্তার। এদিকে মঙ্গলবার তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা ঢাকায় নিহত আমির হোসেন তালুকদার বাড়ী পরিদর্শন করেছেন।

Manual7 Ad Code

নিহতের চাচা জাকির হোসেন তালুকদার বলেন, গত ১৯ জুলাই ঢাকায় আন্দোলন চলাকালে আমার ভাতিজা আমির হোসেন তালুকদার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। আমিন হোসেন স্ত্রী ও তিনটি শিশু সন্তান রেখে গেছেন। ওই শিশু সন্তানদের ভরন পোষনের কেউ রইলো না। আমির হোসেনের স্ত্রী আন্নি আক্তার তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার দাবী জানান তিনি।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন,আমির হোসেন দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় থাকতেন।এবং তিনি অত্যন্ত গরিব মানুষ ঢাকা শহরের রিসকা চালিয়ে দিনযাপন করতো।তিনি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তিনি পুলিশের গোলাগুলিতে মারা যান। তিনটি বাচ্চা আছে এবং আমি সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই যে তাদের যদি কোনো আর্থিক সহযোগিতা সরকারের কাছে থাকে সেটা জানো তারা পায়।

তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ্ জালাল বলেন, নিহত আমির হোসেন তালুকদারের বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনা জেনেছি। তার নিহতের ঘটনাস্থল ঢাকায়। ওই স্থানের পুলিশই ব্যবস্থা নেবেন।

Manual7 Ad Code

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা বলেন, নিহত আমির হোসেনের বাড়ী পরিদর্শণ করেছি। তার পরিারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code