বাসদ’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে মিছিল ও সমাবেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মহান রুশ বিপ্লবের ১০৭তম ও বাসদ (মার্কসবাদী)’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকালে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে সিটি পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার সংগঠক সঞ্জয় কান্ত দাসের সভাপতিত্বে ও সুমিত কান্তি দাসের পরিচালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অজিত রায়, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলার সদস্য নমিতা রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বুশরা সুহাইল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখার সংগঠক শফিকুল ইসলাম, চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর সংগঠক রানা বাউরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, “ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব সংগ্রাম ও জীবনদানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে। এতবড় ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলে আন্দোলনের মধ্য থেকেই দাবি উঠেছে সমাজের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো-এখানে শোষণমুক্তির স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা জীবন দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সরকার তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা জনগণকের ধীরে ধীরে হতাশ করে তুলছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি পূর্বের ফ্যাসিবাদী সরকারের ন্যায় রিক্সা শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে শুরু করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে কিভাবে লাঠিচার্য থেকে শুরু করে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা। ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকে নানা ট্যাগিং দেওয়া থেকে শুরু করে ভিন্নমত দমনের প্রচেষ্টা। তার সাথে যুক্ত হয়েছে দ্রবমূল্যের চরম উর্ধ্বগতি, বাজার সিন্ডিকেট। সরকার দীর্ঘ তিন মাসেও এসব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে নি। পারেনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে।এখনো আহতদের আহাজারি হাসপাতালগুলোতে শুনতে হচ্ছে। সরকারের মধ্যে মৌলিক বিষয়ে কাজ করার চেয়ে নানা সস্তা জনপ্রিয় চটকদার সিদ্ধান্ত নিতে ব্যতিব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।
ফলে এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মানুষ কি বার বার এভাবে ব্যর্থ হবে? না-১৯১৭ সালে সর্বহারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দেখিয়েছে কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়।সর্বহারা শ্রেণি দেখিয়েছে -শুধু শোষক বুর্জোয়া সরকারকে উচ্ছেদ করলেই হবে না, তার স্থলে ক্ষমতা দখল করতে হবে গরীব মেহনতী মানুষকেই।তারপর সেই শোষণমূলক বুর্জোয়া রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় আজ থেকে ১০৭ বছর আগে পৃথীবীর বুকে সর্বহারা শ্রেণী মার্কসবাদ- লেনিনবাদের শিক্ষায় বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার প্রভাব কেবলমাত্র রাশিয়ার মাটিতে সীমাবদ্ধ ছিলো না,দুনিয়ার দেশে দেশে শ্রমজীবি মানুষের কাছে এনেছিলো মানবমুক্তির এক নতুন বার্তা।
মার্কসবাদ লেনিনবাদের সেই দৃঢ় ও উন্নত উপলব্ধি কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারাকে প্রয়োগ করে বাংলাদেশের মাটিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আমাদের মহান পার্টি বাসদ (মার্কসবাদী) বাংলাদেশের মাঠিতে চালিয়ে যাচ্ছ। এই সংগ্রাম এগিয়ে নিতে দেশের সকল শ্রমজীবী মেহনতী মানুষ ও গণতন্ত্রমনা মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই ।
Related News
শাকসু নির্বাচন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) ওRead More
শুক্রবার সিলেটের যেসব স্থানে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করলো পুলিশ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর)Read More



Comments are Closed