Main Menu

ভিডিওকলে নববধূ ও প্রবাসী প্রেমিকের আত্মহত্যা, অতঃপর…

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লায় বিয়ের ১২ দিন পর স্বামীর বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন নববধূ। একই সময় ওই নববধূকে ভিডিওকলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন তার প্রবাসী প্রেমিক।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলার লালমাইয়ে উপজেলার বেতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

Manual2 Ad Code

জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতুয়া (কৃষ্ণপুর) গ্রামের রংমিস্ত্রি আরিফুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় সদর দক্ষিণ থানাধীন মাটিয়ারা গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে নিহত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার ঊর্মির (১৬)। অন্যদিকে তার প্রেমিক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে সাফায়েত হোসেন। ঊর্মির বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় প্রবাসী প্রেমিককে ভিডিওকলে রেখে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ওই সময় তার ওমানপ্রবাসী প্রেমিক সাফায়েত হোসেনও আত্মহত্যা করেন। তাদের দুজনের কাছ থেকেই চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে একসঙ্গে দাফনের আকুতি জানিয়েছেন নববধূ।

ঊর্মির মরদেহের কাছ থেকে পাওয়া চিরকুটে লেখো ছিল, ‘চাইছিলাম দুজনে একসঙ্গে বেঁচে থাকতে। বাঁচতে দিল না। এটা সত্যি, ও আমার প্রথম সাথি। ওরে আমি বিয়ে করছি। কিন্তু ওর জায়গায় আমি অন্য কাউরে দিতে পারি নাই, পারবও না। তোমরা সুখে থেকো। আমি ওকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। ও বেঁচে থাকলেও তোমরা ওকে খুন করতে এবং ওর ফ্যামিলিকে জেলের ভাত খাওয়াইতে। তাই নিজেও দুনিয়া ছাড়লাম। ওরে আমার সঙ্গে নিয়ে গেলাম। আপনাদের কাছে একটা শেষ ইচ্ছা থাকবে। বাবা-মা ও ভাই-বোনের কাছে একটা আবদার, দুনিয়াতে যেহেতু একসঙ্গে থাকতে দেও নাই, আমাদের দাফনটা যেন একসঙ্গে হয়। এক দিন আগে-পরে হলেও একই কবরস্থানে যেন দাফন করে। সে চাওয়াটা যেন পূরণ করেন আপনারা।’

Manual6 Ad Code

অন্যদিকে প্রবাসী সাফায়াত মৃত্যুর আগে চিরকুটে লিখেছেন, শেষ ইচ্ছে পূরণ করার দায়িত্ব আপনাদের। আমার মৃত্যুর কারণ একমাত্র ওর ফ্যামিলি। আমার মোবাইলে সব রেকর্ড করা আছে। সব কিছু ভিডিও করা আছে। আমার মৃত্যুর জন্য কে কে দায়ী সব কিছু আমার মোবাইলে রেকর্ড করা আছে আর ভিডিও করা আছে। আমার মোবাইল তার প্রমাণ। আমার মোবাইল চেক করলে সব পাবেন। রেকর্ড অপশনে আর গ্যালারিতে সব আছে। গ্যালারিতে আমার আটটা ভিডিও আছে। সবগুলো দেখবেন। লক খুলে রেকর্ড অপশনে ঢুকবেন, ইমোতে দুইটা আর বাকিগুলো গ্যালারিতে পাবেন। তার দেওয়া চিঠি আছে আরিফ নামের আইডিতে। আমাদের মৃত্যুর কারণ তারা। কোনো দিন ক্ষমা করব না।

Manual6 Ad Code

ঊর্মির মা নুরুন্নাহার জানান, তার মেয়ে ঊর্মির সঙ্গে সাফায়াত নামের একজন প্রবাসী ছেলের সম্পর্ক ছিল। গত ১৪ অক্টোবর সম্মতি নিয়েই মেয়েকে বিয়ে দেন তারা। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে হাসি-খুশিতেই ছিল সে। শনিবার রাতে হঠাৎ তারা খবর পান ঊর্মি ও তার প্রেমিক সাফায়াত ভিডিওকলে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। প্রবাসী ছেলেটাই তার মেয়ের মাথা খারাপ করে দিয়েছে।

Manual2 Ad Code

সাফায়াতের বাবা আবদুল খালেক জানান, গত বছর তিনি ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে তার ছেলে হঠাৎ বিদেশে কর্মস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। খবর নিয়ে শুনেছিলেন, ফেসবুকে তার ছেলের সঙ্গে ঊর্মি নামের এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। হঠাৎ মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সাফায়াত অসুস্থ হয়ে গেছে। শনিবার রাতে সেই মেয়ে তার ছেলের সঙ্গে ভিডিওকলে চিরকুট লিখে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছেন তিনি।

এ বিষয়ে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, নববধূ প্রবাসী প্রেমিককে ভিডিওকলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন। প্রবাসী প্রেমিকও একইভাবে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার রাতে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের পাশে হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার আগে মেয়েটি তার মা-বাবার উদ্দেশে এটি লিখেছিল। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code