সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি, ধীরে নামছে পানি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলেও পানি নামছে খুব ধীর গতিতে। এখনো সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে এবং জেলার সহস্রাধিক গ্রামের প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দী। আশ্রয়কেন্দ্রে আছে ১০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে পড়ে সিলেটের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও উজানের বৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগে আছেন সিলেটের মানুষ। ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে পানি বাড়ে সুরমা ও আসামের বৃষ্টিতে বাড়ে কুশিয়ারা নদীর পানি। তবে গত তিনদিন সিলেটে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি।
জেলা প্রশাসন সূত্র শনিবার বিকালে জানায়, সিলেটে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৮৭ জন পানিবন্দী। বর্তমানে জেলার ১ হাজার ১৩৯টি গ্রাম প্লাবিত। আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন ৯ হাজার ৮৩১ জন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কার্যালয় জানায়, শনিবার বিকালে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ৪টি পয়েন্টে ছিলো বিপৎসীমার উপরে।
এদিকে, একের পর এক তিন দফা বন্যাকবলিত হয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সিলেটের মানুষ। ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত, গবাদিপশুর মৃত্যু, পুকুর ও খামারের মাছ ভেসে যাওয়াসহ রবিশষ্য ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত আছে। এছাড়া বন্যাজনিত রোগবালাই ছড়াচ্ছে মানুষের মাঝে। অনেক স্থানে রয়েছে সুপেয় পানি, খাদ্য এবং শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের অভাব।
জেলা প্রশাসন বলছে- বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে গঠিত মেডিকেল টিম বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করছে স্বাস্থ্যসেবা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাধঁ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। নৌকা না থাকায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনায় পড়ে। পানিতে ডুবেছে ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র। উপজেলার চারটি এলাকা দিয়ে কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে বানের পানি লোকালয়ে ঢুকে ভেসে গেছে বিপুলসংখ্যক পুকুর ও ফিশারির মাছ। সেই সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জকিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, জকিগঞ্জ-সিলেট ও শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের একটি অংশ তলিয়ে গেছে।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিম বলেন, পানি কিছুটা কমায় জকিগঞ্জে বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। লোকালয় থেকে পানি নামছে। তবে এখনো লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা আছে । এরমধ্যে ৮ টি তে মানুষ আছেন। শুকনো খাবারের পাশাপাশি পানিবন্দিদের রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে।
Related News
বিয়ানীবাজারে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে একটি পুকুর থেকে মানসিকRead More
সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থী নিহত, গুরুতর আহত ২
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে পরীক্ষা শেষে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়েRead More



Comments are Closed