Main Menu

সিলেটে পাথরবাহী ট্রাক থেকে ২৭৫ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ, আটক ১

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির মাঝেও থেমে নেই চিনি চোরাচালান। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে চিনি পাচার অব্যাহত রেখেছে চোরাকারবারিরা। আবারো ট্রাক ভর্তি ২৭৫ বস্তা চিনি পাথরের নীচে করে পাচারকালে ধরা পড়লো পুলিশের হাতে। এই ঘটনায় ট্রাক চালক আটক হলেও অধরা থেকে গেছেন চিনি চোরাচালানের মালিক মূল হোতারা।

বুধবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর শাহপরাণ (র.) থানাধীন সুরমা বাইপাস সংলগ্ন বিকেএসপির সামনের সড়ক থেকে ট্রাক ভর্তি চিনির চালানটি জব্দ করে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, সিলেট-তামাবিল সীমান্ত এলাকা থেকে নগরের দিকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৮৮৫০) থামানোর জন্য সিগন্যাল দিলে দ্রুতবেগে পালানোর চেষ্টা করে।

ট্রাকটির পিছু ধাওয়া করে ট্রাকটি থামিয়ে মো. রুবেল মিয়া (৩৫) নামে চালককে আটক করা হয়। সে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর গগভরাঙ্গারচর গ্রামের আকসির মিয়ার ছেলে। আটক রুবেল ভারতীয় চিনির কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

অভিযানে থাকা শাহপরান (র.) থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. খালিকুর রহমানসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ট্রাকটিতে তল্লাসী চালিয়ে পাথরের অনুমান ৩ ইঞ্চি স্তরের নিচে ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ২৭৫ বস্তা চিনি জব্দ করেন। প্রত্যেক বস্তার গায়ে ইংরেজীতে MANUFACTURED AT ATHANI SUGAR LIMITED, Maharashtra, India সহ অন্যান্য লেখা আছে। প্রতি বস্তায় অনুমান ৪৯ কেজি করে ১৩ হাজার ৪৭৫ কেজি ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়।প্রতি কেজি চিনির মূল্য বাজার দর অনুমান ১২০ টাকা ধরে ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকার চিনি জব্দ দেখানো হয়।

এ ঘটনায় আটক মো. রুবেল মিয়াকে আসামি করে শাহপরাণ (র.) থানায় মামলা (নং-২১ (০৬)২০২৪) রুজু করা হয়েছে। তবে একমাত্র চালক ছাড়া আর কাউকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি।

সূত্র জানায়, শাহপরান (র.) থানা পুলিশ এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ভারতীয় চিনির চালান জব্দ করলেও কেবল চালক ব্যতীত চক্রের মূল হোতাদের কাউকে আটক করতে পারেনি কিংবা মামলায়ও অন্য কাউকে আসামি করেনি। এছাড়া জব্দকৃত ট্রাক মালিকদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। যে কারণে চোরাচালান চক্রে জড়িতরা আড়ালেই থেকে যায়।

এ বিষয়ে শাহপরান (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, মামলায় কেবল চালককে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়নি। কারণ চালক কারো নাম বলছে না। এমনকি মামলায় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকের মালিককেও আসামি করা হয়নি।

ইতিপূর্বে অনেকগুলো চিনির চালান জব্দ হলেও নেপথ্যের হোতাদের না ধরতে পারার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আটককৃত চালকরা নেপথ্যে জড়িতদের নাম বলে না। যে কারণে মামলায় কেবল আটক ব্যক্তিকে আসামি দেওয়া হয়।

তবে চোরাচালানে ট্রাক ধরা পড়লে মালিক আসামি না হওয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ট্রাকতো ট্রান্সপোর্ট থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। আর এখনতো চিনি চোরাচালান অহরহ। যে কারণে ট্রাক মালিকদের দায়ি করা যাচ্ছে না। কারণ ট্রাক ভাড়ায় চলে।

সূত্র জানায়, চিনি চোরাচালানে কে বা কারা জড়িত এটা বের করা পুলিশের পক্ষে অসম্ভব না। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলা হলেও এখানেই নীরবতা পালন করা হয়। ইতিপূর্বে শাহপরান থানা এলাকায় বড় ধরণের বেশ কয়েকটি চিনির চালান জব্দ করা হলেও কে বা কারা জড়িত, তা উঠে আসেনি। আর চোরাই মালামাল বলে জব্দকৃত ট্রাকের মালিক কে তাও খোঁজ নেওয়া হয় না।

এরআগে গত ১৪ জুন দুপুরে একই কায়দায় ট্রাকে পাথরের নীচে করে পাচারকালে ২০০ বস্তায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি চিনির চালান জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য ছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ট্রাক চালক সালাহ উদ্দিন ও হেলপার মহসীন আটক হন। তাদের অভিযুক্ত করে মামলা হলেও নেপথ্যের জড়িতরা অভিযুক্ত হননি।

Share





Related News

Comments are Closed