Main Menu

ওসমানী হাসপাতালে পেট কেটে বের করা হলো জীবন্ত কুঁচিয়া মাছ!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাছ ধরতে নেমে এক ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে যায় ২৫ ইঞ্চি দীর্ঘ কুঁচিয়া মাছ। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে সেই কুঁচিয়া মাছটি জ্যান্ত বের করা হয়।

গত শনিবার (২৩ মার্চ) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিতিঙ্গা চা বাগানের উপজাতি ধনমুন্ডার ছেলে সম্ররামুন্ডা (৫৫) দেহে এ ঘটনা ঘটে।

পরে রোববার (২৪ মার্চ) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ এর প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী জানে আলমের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেট থেকে মাছটি বের করে আনে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে অবিশ্বাস্য ও দুর্লভ এ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সম্ররা মুন্ডা (৫৫) একজন রেজিস্ট্রার কার্ডধারী জেলে। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছ ধরে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। শনিবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সম্ররা মুন্ডা (৫৫) স্থানীয় হাওরে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ কোমর সমান কাদায় আটকে যান। তখন তার দুই হাতে থাকা দুটি কুঁচিয়া মাছের একটি পানিতে পড়ে যায় এবং আরেকটি কাদায় পড়ে। তখন তিনি অনুভব করেন তার পায়ু পথে কি যেন ডুকছে। তবে সেটিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে সম্ররা মুন্ডা সেখান থেকে উঠে বাড়িতে আসার পর তার পেটে প্রচুর ব্যথা অনুভব করে।

আরও জানা যায়, রোববার স্থানীয় হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার কথা শুনে এক্সের মাধ্যমে পেটের ভিতর লম্বা আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান। কর্তব্যরত ডাক্তাররা বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে সম্ররা মুন্ডাকে সন্ধায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

চারজন চিকিৎসক ২ ঘণ্টা অপারেশন চালিয়ে পেটের ভেতর থেকে একটি জীবন্ত কুঁচিয়া মাছ বের করেন। এ ঘটনায় ডাক্তাররা বিস্মিত হন। পরে পেটের ভেতর কুঁচিয়া মাছ জনসাধারণের মধ্যে জানাজানি হলে সিলেটজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অস্ত্রোপচারে অংশগ্রহণ করেন সার্জারি ইউনিট-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদুল ইসলাম ও ডা. তৌফিক আজিজ শাকুর।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে জ্যান্ত ২৫ ইঞ্চি কুঁচিয়া মাছ (জেল ফিস) উদ্ধার করা হয়েছে। এটা একটা অপ্রত্যাশিত ও কঠিন অপারেশন ছিল যা আমাদের টিম ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে। রোগী পুরোপুরি সুস্থ আছেন। বর্তমানে সম্ররা মুন্ডা ওসমানী মেডিকেলের ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed