Main Menu

কানাইঘাটে প্রতিবেশীদের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে প্রতিবেশীদের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম (৫৫) মঙ্গলবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।

Manual4 Ad Code

নজরুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িত হামলাকারী ও তাদের মদদ দাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর পরই থানা পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আম্বিয়া আহমদকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর গত মঙ্গলবার কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি অলক কান্তি শর্মা, থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের শান্তনা প্রদান করেন এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

সরেজমিনে গিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে গরু চুরির ঘটনা নিয়ে রতনপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও তার মেয়ের জামাই সৌদি প্রবাসী ছয়ফুল্লা’র সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মাহমুদ আলীর পরিবারের লোকজনের কথা কাটাকাটি নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিকেল ৩টার সময় মাহমুদ আলী ও তার ভাই হোসেন আহমদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নজরুল ইসলামের ৫টি গরু ধরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। গরু ফেরত আনার জন্য নজরুল ইসলাম ও তার মেয়ের জামাই ছয়ফুল্লাহ মাহমুদ আলীর বাড়িতে গেলে তখন বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে।

প্রাণ বাঁচাতে নজরুল ইসলাম তার মেয়ের জামাই ছয়ফুল্লাহকে নিয়ে বসত বাড়িতে গিয়ে দরজা লাগিয়ে ঘরে আশ্রয় নিলেও বসত ঘর ও দরজা ভেঙে হামলাকারীরা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর নজরুল ইসলাম ও ছয়ফুল্লাহকে তারা টেনে হেঁছড়ে বের করে এনে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মুগোর, লাঠি-সোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিঠিয়ে ও কুপিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। নজরুল ইসলামের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও ৩ মেয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে হামলাকারীরা।

Manual2 Ad Code

একপর্যায়ে আহত নজরুল ও ছয়ফুল্লাহকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক ভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় আশপাশের বাড়িতে টেনে হেঁছড়ে নিয়ে পুণরায় নজরুলের বাড়ির একটি আমগাছে তাদের বেঁধে রাখে হামলাকারীরা।

Manual1 Ad Code

নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী ও ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহ আরো কিছু গ্রাম্য মাতব্বর এর সামনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নজরুল ইসলাম ও ছয়ফুল্লাহকে রাখা হলেও তারা কোন সু-বিচার করেননি।

তারা আরও জানান, হামলায় নেতৃত্ব দেন মৃত সফর আলীর পুত্র মাহমুদ আহমদ, হুছন আহমদ, হুছন আহমদের পুত্র কামরুল, দিলদার ও মাহমুদ আহমদের পুত্র আম্বিয়া আহমদ সহ আরো কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুল ইসলাম ও ছয়ফুল্লাহকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন নজরুল ইসলাম।

এ ঘটনার পর নজরুল ইসলামের স্ত্রী কানাইঘাট থানায় হামলাকারী ৫ জনকে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দরখাস্ত মামলাটি এফআইআর করে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, নজরুল ইসলাম ও ছয়ফুল্লাহ আহতের ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। যেহেতু আহত নজরুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, যার কারণে মামলাটি আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যা মামলায় রূপান্তিত করা হবে এবং এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার করতে এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code