শালকী নদী হতে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলন
মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহরের কোল ঘেঁষে বহমান শালকী নদী থেকে অবাধে চলছে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাশে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট, পাকা রাস্তাসহ হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই শশ্মাণঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা গ্রামের গুলজার রহমান নামে এক ব্যক্তি কয়েক হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে স্তুপ ও অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বালু উত্তোলনের স্থানের কাছের পাকা রাস্তা, দো’মুখা গঙ্গা মন্দির, শ্মশানঘাটটি হুমকিতে পরতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারনা করছেন।
বালু উত্তোলনকারী গুলজার রহমান জানান, ঠিকাদার খোরশেদ আলম ও নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা (সহকারী প্রকৌশলী) আশরাফুলের নির্দেশে তিনি বালু উত্তোলন করছেন।
বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন এবং ড্রেজার মেশিনটি তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু বালু উত্তোলনকারী গুলজার সহকারী কমিশনারের নির্দেশ অমান্য করেই বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন বলছে তারা কিছুই জানে না। তবে সংবাদকর্মীরা জানতে চাইলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় প্রশাসন।
গত সোমবার (২১ আগষ্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা কেন্দ্রের পাশ দিয়ে বহমান শ্মসানঘাট সংলগ্ন এলাকার শালকী নদী থেকে নদীতে ড্যাম্পিং করার কথা বলে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। এছাড়াও পাশেই ডোমার ফরেষ্ট বাগানের কাছে আরও একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করছে কচুকাটা এলাকার বালু ব্যবসায়ী গুলজার। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেই আমাকে বালু তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাশে সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি ফরেষ্ট বাগানও হুমকির মুখে পড়বে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হলে দেওয়া হয় হুমকি। বালু উত্তোলনের সরকারি নীতিমালা থাকলেও কোন তোয়াক্কা করছেন না বালু উত্তোলনকারী গুলজার। গায়ের জোরে এমন কর্মকাণ্ড তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে উধ্বর্তন কতৃপক্ষ হয়তো ইউএনও সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল আলম বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবগত নন জানিয়ে বলেন, কাউকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেননি তিনি। বিষয়টি তিনি দেখছেন বলে জানান।
Related News
কুড়িগ্রামে পুকুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামেRead More
পঞ্চগড়ে তেলবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ইজিবাইক চালক নিহত, আহত ৩
Manual4 Ad Code মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় তেলবাহী ট্রাকেরRead More



Comments are Closed