Main Menu

আখালিয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৩ শিক্ষক রিমান্ডে

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর আখালিয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র কুরআন পুড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের তিন শিক্ষককে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাদের আদালতে তুলে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ (পিপিএম)।

এরআগে গত রবিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আখালিয়ার ধানুহাটারপাড়স্থ সিলেট আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ নুরুর রহমানের (৫০) বিরুদ্ধে পবিত্র কুরআনের ৪৫টি কপি কেরোসিন ঢেলে পুড়ানোর অভিযোগ উঠে। ঘটনার পর তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা মাহবুব আলম (৪৫) নামে আরেক শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। পরদিন (সোমবার) বিকালে সিলেটের টুকেরবাজার থেকে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের খন্ডকালীন শিক্ষক ইসহাক আহমদকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯ এর একটি টিম। ওই দিন রাতে পবিত্র কুরআন পুড়ানোর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। একটি পবিত্র কুরআন পুড়ানো এবং অপরটি পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগে। প্রথম মামলার বাদী হন কোতোয়ালি থানার এসআই রাশেদ ফজল ও দ্বিতীয়টির বাদী এসআই অঞ্জন কুমার দেবনাথ। এর মধ্যে প্রথম মামলায় তিনজনকে এবং দ্বিতীয়টিতে ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

গত মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক কারাগারে প্রেরণের নির্দেশন দেন। এসময় গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। সে আবেদনের শুনানির দিন রবিবার (১৩ আগস্ট) ধার্য্য করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত নুরুর রহমান সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মৃত ফজুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর আখালিয়া তপুবন এলাকার সরু মিয়ার বাসায় বসবাস করছেন। নুরুর রহমান ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জৈন্তাপুর মাদ্রাসার ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক। পাশাপাশি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নুরুর রহমানের সঙ্গে থাকা মাহবুব আলম ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানাধীন বাউলাপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে কোতোয়ালি থানাধীন আখালিয়া ধানুহাটারপাড় এলাকায় বসবাস করছেন। মাহবুবও ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় (রবিবার রাতে) একটি ব্যক্তিগত কাজে নুরুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে এসে ফেঁসে যান তিনি।

গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয়জন ইসহাক আহমদ সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন ফতেহপুর মাদ্রাসার শিক্ষক ও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের খন্ডকালীন শিক্ষক। সিলেট বেতারের ক্বারিও তিনি। ইসহাক ৬ আগস্ট রবিবার বিকেলে নুরুর রহমানের কাছে এক কার্টুন নতুন ও এক বস্তা ভর্তি পুরাতন কুরআন শরিফ নিয়ে এসে নতুনগুলো ছাত্রদের মাঝে বিতরণ এবং পুরাতনগুলো পুড়িয়ে ফেলতে বলেন।

তার কথার প্রেক্ষিতেই নুরুর রহমান রবিবার (৬ আগস্ট) রাতে পবিত্র কুরআনের ৪৫টি কপি কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলেন। এসময় বিষয়টি স্থানীয়রা দেখে ফেলেন এবং জানাজানি হয়ে গেলে কয়েক হাজার উত্তেজিত জনতা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ফটকে এসে জড়ো হয়ে নুরুর রহমানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুর রহমান ও মাহবুবকে প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষে আটকে রেখে ক্ষুব্দ জনতার হাত থেকে রক্ষা করে। এসময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

সময় যত বাড়তে থাকে পরিস্থিতি তত উত্তপ্ত হয়। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টিম সিআরটি এবং জালালাবাদ ও কোতোয়ালি থানার অতিরিক্ত পুলিশ এবং র‍্যাব-৯ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

এসময় উত্তেজিনত জনতার একাংশ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। উত্তেজিত জনতা এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এতে অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া পুলিশের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেন জনতা।

রাত সাড়ে ১২টার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন উত্তেজিত জনতা। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed