Main Menu

সিলেটে নগর ভবনের ছাদ থেকে পাইপ পড়ে সেনা সদস্য নিহত, আটক ৯

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মানাধীন ১২ তলা ভবনের ছাদ থেকে স্টিলের পাইপ পড়ে পথচারী সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৩ মে) বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়াল হোসেন সেনাবাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ। দুর্ঘটনার সময় তিনি নগর ভবনের পার্শ্ববর্তী সিটি সুপার মার্কেটে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন ওসি।

Manual1 Ad Code

নিহত ল্যান্স কর্পােরাল দেলোয়াল হোসেন সেনাবাহিনীর ৫০ ফিল্ট রেজিমেন্ট আর্টিলারী, ১৭ ডিভিশন, সিলেটে কর্মরত। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলার রাংনি থানাধীন জগিরগোফার রায়পুর গ্রামে। তিনি এক ছেলে সন্তানের জনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের ১২ তলার ছাদ থেকে হঠাৎ করেই একটি স্টিলের পাইপ পাশের সিটি মার্কেটের ভিতরে ওই সেনা সদস্যের মাথায় এসে পড়ে। সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেরণ করেন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনায় নগর ভবনের নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৯ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিলেট সিটি কির্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নগর ভবনের ১১ ও ১২ তলার নির্মাণ কাজ চলছে। আজ (শনিবার) দুপুরে নির্মান কাজ চলাকালেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মেয়র বলেন, অনাকাঙ্খিত এই ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আর যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ কাজের জন্য নগরভবনের নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মানাধীন ভবনের ছাদ থেকে স্টিলের পাইপ পড়ে সেনা সদস্য নিহতের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গণপূর্ত বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী ‍রিপন কুমার রায়, সিসিকের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর, শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম, সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান, সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলম ও সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজি উদ্দিন খান।

শনিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য জানিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এধরণের ঘটনায় আমি মর্মাহত। এ ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ৭২ ঘন্টার মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিবেন। আমি সেনা কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেছি। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ি দায়িদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Manual8 Ad Code

মেয়র বলেন, নগরভবনের ১২ তলার নির্মাণ কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামাল এন্ড কোং এই কাজ করছে।

এরআগে ২০২০ সালে সিসিকের উন্নয়ন কাজের রডের আঘাতে কবি আব্দুল বাছিত মোহাম্মদ মৃত্যুবরন করেন। এরপর সিটি করপোরেশনের অরক্ষিত উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন। রিটে কবি আব্দুল বাছিত মোহাম্মদের ‘মৃত্যু’র সুষ্ঠু তদন্ত ও সিটি করেপারেশনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট জেলা প্রশাসককে এই ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনেও সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টি উঠে আসে।

Manual5 Ad Code

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী দীপন শনিবার বলেন, যে কোন উন্নয়ন কাজের আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব কাজের ঠিকারদারদের। কিন্তু কোন ঠিকাদারই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেন না। এবং এটি তদারকি করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীদের থাকলেও তারা এগুলো এড়িয়ে যান। এরফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে।

দীপন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে উন্নয়ন কাজের জন্য একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। আজকেও একজনের প্রাণ গেলো। সিটি করপোরেশন কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গহণ করা উচিত।

Manual3 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code