Main Menu

খাদ্যে ফরমালিন অভিশাপ

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান: মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরমালিনমুক্ত খাবারে’- এটাই প্রত্যাশা করব আমরা প্রত্যেক জনগন সরকার ও ব্যবসায়ী ভাইদের কাছে।ফরমালিন হলো ফর্মালডিহাইডের পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মতো। পানিতে সহজেই দ্রবণীয়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালডিহাইডের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন হিসেবে ধরা হয়। ফরমালিন সাধারণত টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, পেপার, রঙ, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ফর্মালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতি প্রথমে ফর্মালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়। দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইসলাম কী বলে :মানুষ মানুষকে ঠকিয়ে অধিক মুনাফা লাভের জন্য যেসব পন্থা অবলম্বন করে সেগুলোর অন্যতম হলো ধোঁকা বা প্রতারণা। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এর দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে আস্থা ও স¤প্রীতি নষ্ট হয়। তাই ইসলাম ব্যবসায়ে ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে মুনাফা অর্জন করা নিষেধ করেছে এবং এর সব রূপ ও পন্থাকে হারাম করে দিয়েছে, চাই তা ক্রয়-বিক্রয়ে হোক কিংবা অন্যান্য মানবীয় ব্যাপারেই হোক, কোনো ক্রমেই তা জায়েজ নয়। অতএব ভেজাল পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং অবৈধ। ইসলামের দাবি হচ্ছে, সব ব্যাপারেই প্রত্যেক মুসলিম সততা ও ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করবে। পণ্যদ্রব্যে ফরমালিনসহ যেকোনো ভেজালপ্রবণতার ফলে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য অস্বাস্থ্যকর ও বিভিন্ন রোগের নিয়ামক শক্তিরূপে পরিণত হয়। খাবার থেকেই যেমন মানুষের রক্ত সৃষ্টি হয়,তেমনি তা থেকেই রোগের উৎপত্তি ঘটতে পারে। ফলে এর বিষাক্ত ছোবলে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

কুরআন মাজিদে এ ধরনের গুপ্তহত্যাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি ইসরাইল জাতির জন্য এ বিধান দিলাম যে, কেউ কাউকে হত্যা করলে তার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেয়া অথবা কেউ দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা-বিপর্যয় সৃষ্টি করলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ছাড়াও কেউ যদি কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে তাহলে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল’। খাদ্য ও পণ্যে ভেজাল দেয়ার ফলে ভেজালদানের কাজে জড়িত ব্যক্তি অপরের ক্ষতিতে সচেষ্ট হয়। শুধু তা-ই নয় বরং সে নিজেও অন্যের ভেজালে আচ্ছাদিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কেননা সে তো এ সমাজেরই একজন সদস্য। মহান আল্লাহ এমন কর্মকান্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কুরআন মাজিদে উল্লেখ আছে, ‘তোমরা একে অপরকে হত্যা কোরো না’ । এ ছাড়া এ মর্মে হাদিস এসেছে,‘নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি করা যাবে না’ ।

অধিক মুনাফা লাভের নেশায় ফরমালিন বা ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য খাদ্য বা পণ্যে মিশিয়ে কিংবা মন্দ লুকিয়ে রেখে বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, ‘মহানবী [সা.] একদা একটি খাদ্য স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপটির মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাতে তাঁর হাত ভিজে গেল। মহানবী [সা.] বিক্রেতাকে বললেন, এটা কী হচ্ছে? সে বলল, এগুলোকে বৃষ্টিতে পেয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কেনো ভেজা অংশকে বাইরে রাখলে না, যাতে লোকেরা তা দেখে নিতে পারে। জেনে রেখো, যারা প্রতারণা করে, তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ । তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্তে¡ও না বলা হারাম’। মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘তোমরা বাতিল উপায়ে পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কোরো না’। একদা একটি খাদ্য স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপটির মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাতে তাঁর হাত ভিজে গেল। মহানবী [সা.] বিক্রেতাকে বললেন, এটা কী হচ্ছে? সে বলল, এগুলোকে বৃষ্টিতে পেয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কেনো ভেজা অংশকে বাইরে রাখলে না, যাতে লোকেরা তা দেখে নিতে পারে। জেনে রেখো, যারা প্রতারণা করে, তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ । তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্তে¡ও না বলা হারাম’ । মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘তোমরা বাতিল উপায়ে পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কোরো না’ ] একদা একটি খাদ্য স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপটির মধ্যে তাঁর হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাতে তাঁর হাত ভিজে গেল। মহানবী [সা.] বিক্রেতাকে বললেন, এটা কী হচ্ছে? সে বলল, এগুলোকে বৃষ্টিতে পেয়েছিল। তিনি বললেন, তুমি কেনো ভেজা অংশকে বাইরে রাখলে না, যাতে লোকেরা তা দেখে নিতে পারে। জেনে রেখো, যারা প্রতারণা করে, তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’। তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্তে¡ও না বলা হারাম’ । মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘তোমরা বাতিল উপায়ে পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কোরো না’।তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্তে¡ও না বলা হারাম’ । মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘তোমরা বাতিল উপায়ে পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কোরো না’।তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’। তিনি আরো বলেন, ‘কোনো পণ্যের দোষক্রটি না বলে বিক্রি করা হালাল নয়। আর জানা সত্তে¡ও না বলা হারাম’ । মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘তোমরা বাতিল উপায়ে পরস্পরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ কোরো না’ ।

ফরমালিন ফরমালিন প্রতিরোধে দু’টি করণীয়- এক. রাষ্ট্রীয়ভাবে এর প্রতিকার করা ও দুই. নৈতিকভাবে এর প্রতিকার করা।

এক. রাষ্ট্রীয়ভাবে ফরমালিন ব্যবহার কঠোরহস্তে বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া অতি জরুরি। দেশের সর্বত্র ফলমূল, মাছসহ যেসব পণ্যে ফরমালিন ব্যবহার করা হয় সেগুলো বিক্রির আগে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মাছ ও ফল, তরিতরকারি বিক্রেতাদের আড়ত এবং উৎপাদনকারীদের ফরমালিন মেশানোর কর্মকান্ড কঠোরহস্তে রোধ করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। ফল ও তরকারি, মাছ, শুঁটকিসহ যেসব পণ্য পচন রোধে ভয়ানক বিষ ফরমালিন ব্যবহার হয়, সেসব স্থানে কঠোরভাবে প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক নজিরবিহীন শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া অতি জরুরি। শুধু প্রয়োজনীয় ফরমালিন ব্যতীত অতিরিক্ত ফরমালিন আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

দুই. ইসলাম ন্যায়নিষ্ঠা ও ইনসাফ, সততা, আমানতদারী, পারস্পরিক সহযোগিতা, উপদেশ, ক্ষমা ও ভালোবাসার দ্বীন। মূলত এগুলো নির্ভর করে মানুষের আচার-আচরণের ওপর। মানুষের আচরণ অন্যায়-অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা, কঠোরতা, মিথ্যা খেয়ানত, ধোঁকাবাজি, ভেজাল, হিংসাবিদ্বেষের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক ইসলাম কখনো তা পছন্দ করে না। অন্যায়ভাবে কেউ খাদ্যে ফরমালিন মেশাবে, কারো মাল ভক্ষণ করবে, হারাম ও অবৈধ ব্যবসা করবে, আল্লাহর নাফরমানি ও পাপাচারে লিপ্ত হবে, তা ইসলামে চিন্তা করা যায় না। মানুষ যদি অর্থনৈতিক লেনদেনে ইসলাম ও বিশ্বাসকে লালন করে তাহলে তার মধ্যে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার গুণ সৃষ্টি হবে। সেখানে আল্লাহ বরকত দেবেন এবং তার জীবনের সব ক্ষেত্রে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে। আর সে যদি অধিক লোভ লালসা করে শুধু অর্থ উপার্জনকেই জীবনের স্বার্থকতা মনে করে তাহলে তাকে ইহ-পরকালীন জীবনে লাঞ্ছিত হতে হবে।

দোষযুক্ত খাবার বিক্রি নিষেধ করে মহানবী [সা.] বলেছেন, ‘একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই, দোষযুক্ত কোনো মাল তার কাছে বিক্রি হালাল নয় যতক্ষণ সে দোষ বলে না দেয়’। সরকারিভাবে ফরমালিন মিশ্রিত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া। প্রয়োজনে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় ফরমালিন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। স্থানীয় সৎ লোকদের নিয়ে বাজার কমিটি করা এবং তাদের এ ক্ষমতা দেয়া তারা যেন অবৈধ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে পারে। অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রচারমাধ্যমে তাদের ছবি প্রকাশ করা এবং মাল ধ্বংস করে দেয়া। সৎ ভাবে ব্যবসায় বাণিজ্য করা ইহ-পরকালীন উভয় ক্ষেত্রে কল্যাণকর, এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধকরণে আলোচনা সভা, সেমিনার ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা। ফল থেকে দুধ, ধান থেকে পান এমন একটি পচনশীল ভোগ্যপণ্য নেই যাতে ফরমালিন, কারবাইড বা বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার হচ্ছে না। আর বিষাক্ত পদার্থের নির্বিচার ব্যবহার সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে প্রতিটি মানুষের রীতিমতো শঙ্কিত করে তুলছে। সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, ফরমালিনমুক্ত খাদ্যে সুযোগ করে দেবেন।

লেখক- গবেষক ও কলামিস্ট, পাঠান পাড়া (খান বাড়ী) কদমতলী, সিলেট-৩১১১।

 

Share





Comments are Closed