সিলেটে কালবৈশাখী ঝড়, অল্প বৃষ্টিতেই নগরীতে হাটুজল
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে কালবোশেখী তান্ডব চালিয়েছে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঝড়ের সাথে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টিপাত। অনেক জায়গায় গাছপালা ভেঙে পড়ে, টিনের চাল উড়ে যায়। মাত্র আধাঘণ্টার ঝড় ও বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুজল দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি জমে জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
এদিন সিলেটে ৫৯ মিলিমিটিার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এসময় তীব্র বাতাসের ধাক্কায় সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নবনির্মিত ভবনের যাত্রীদের বসার স্থানের কক্ষের একটি দেওয়ালে লাগানো থাই গ্লাস ঝন ঝন করে ভেঙে পড়ে। গ্লাস ভেঙে পড়ছে দেখে এর নিচে থাকা তিনজন দৌঁড়ে প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের অধীনে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বাস টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।
গত ১ এপ্রিল ভবনের দেয়ালে ফাটল নজরে আসে। এরপর ওই দিনই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যেই ঝড়ে ভবনের কাচ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটল।

নগরীর আখালিয়া, উপশহর, করেরপাড়া, ষ্টেশন রোড, তালতলা, জামতলা, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট, সুনামগঞ্জ রোড, লন্ডনি রোড, হাওয়াপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি তাদের নিজেদের ফেইসবুকে জলাবদ্ধতার ছবি পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, কিছু সময়ের সামান্য বৃষ্টিতে এমন জলাবদ্ধতায় নগরীর মানুষ চরম বিপাকে। অথচ সিটি কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যথা নেই। ষ্টেশন রোডের এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এখানে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অপরিকল্পিত ভাবে কাজ করার ফলে পানি নামছে না বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।
এদিকে উন্নয়ন আর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বক্স ড্রেন নির্মাণকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পরিস্কার করার আধুনিক কোন ব্যবস্থা না রেখেই এসব বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। আর তাই শুধু নিম্বাঞ্চলই নয়, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই এলাকার রাস্তায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলের বৃষ্টি থামার প্রায় ঘন্টাখানেক পরেও ওই রোডের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মতো অবস্থা ছিল।
একই অবস্থা ছিল নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের স্টেশন রোড এলাকায়। এই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্যে রাখার জায়গা ছিলনা। হাঁটু সমান পানি। শোচনীয় অবস্থা ছিল নগরীর সিলেট-সুনামগঞ্জ রোডের সুবিদবাজার, লন্ডনি রোড, হাওয়াপাড়া, দাড়িয়াপাড়া, সুবহানীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার।
এব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নকাজ চলছে। পাঠানটুলা-মদিনা মার্কেট এলাকায় আমরা দুই ভাগে ড্রেন করতেছি। আর ওই এলাকার সড়কটি হচ্ছে নিচু তাই এমন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কাজ শেষ হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।
Related News
খুলনা থেকে অপহৃত কলেজ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর আম্বরখানায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং এক যুবককে আটকRead More
মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একদিনের সফরেRead More



Comments are Closed