সিলেটে মশার উপদ্রবে অতিষ্ট নগরবাসী, নিরব সিসিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শীত শুরু আগেই সিলেট নগরীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। বাসাবাড়ী, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্র মশার উপদ্রব। দিন-রাতে সমানতালে মশার উপদ্রব চললেও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কার্যত নিরব।
দিন-রাতে কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টাঙিয়েও যেন নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। জনবল সঙ্কটের অজুহাতে অনেকটা নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। মশক নিধন কার্যক্রমে সিসিকের ব্যর্থতার কারণে মশার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এতে ম্লান হচ্ছে এতসব মেগা উন্নয়ন।
শীত নামার আগেই নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়তে শুরু করেছে। এর মাত্রা ক্রমশই বাড়ছে। মাস খানেকের মধ্যে বৃষ্টি না হওয়ায় নগরীর সকল ড্রেন ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। এতে পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, তেমনি বাড়ছে মশার প্রজনন। সিসিকের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে নামমাত্র চতুর্থ প্রজন্মের লার্ভিসাইড কীটনাশক ‘টেমফস্ট’ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কোন সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় খাল, নর্দমা, ডোবায় পানির পরিমাণ কমে গেছে। সেসব স্থানে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। শহরের বস্তি এলাকা, ঢালাই মেশিন, পরিত্যক্ত পলিথিন, ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, রাস্তার পাশে থাকা ককশিট ও বাসাবাড়ির আশপাশ থেকে মশা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে সিলেট সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন এলাকায় খাল, ডোবা ও জলাশয় পরিষ্কার-উচ্ছেদ করে। তবে টানা কয়েক মাস থেকে এই কাজে সিটি কর্পোরেশনের নিস্ক্রিয়তা লক্ষনীয়। অপরিকল্পিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে মশা কমার বদলে বাড়ছে।
সিসিক কর্তৃপক্ষ যদিও বলছে, তারা বছরে ৪ টি ধাপে পুরো নগরীতে মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় জনবল সঙ্কটের কারণে মশার বিস্তার রোধে তাদের দুর্বলতার বিষয়টি স্বীকার করেছে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ২৭টি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জনবল নেই। নিয়মমাফিক কীটনাশক প্রয়োগ না করায় মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে একটি এলাকায় ১৫ দিন পর একবার করে স্প্রে এবং এর ১৫ দিন পর ফগার মেশিন ব্যবহার করতে হয়। আর এভাবে ৪ থেকে ৬ বার স্প্রে করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রয়োজন মাফিক জনবল না থাকায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। স্প্রে করার ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ফগিং করতে হচ্ছে। ফলে অভিযানের সুফল মিলছেনা।
সিসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য সিসিকের স্থায়ী কোন জনবল নেই। দৈনিক মজুরীতে লোক নিয়োগ করে চালানো হয় কার্যক্রম। নগরীর ১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য দৈনিক মজুরী বাবত ৩৬ হাজার টাকা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলারগণের মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মশক নিধন কার্যক্রম। ৪০০ টাকা রোজে প্রতি ওয়ার্ডে আড়াই থেকে ৩ মাসব্যাপী কার্যক্রমে ৯০ জনকে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবে এই কাজের জন্য বছরে সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এর কোন সুফল পাচ্ছেনা নগরবাসী।
এদিকে ব্যর্থতা স্বীকার করলেও মশার বৃদ্ধির জন্য নাগরিকের অবহেলাকে দায়ী করছেন তারা। গত অক্টোবর মাস থেকে নগরীতে মাইকিং করে বলা হয়েছে, বাসার সামনে কিংবা ড্রেনে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে এবং নিজ দায়িত্বে বাসা বাড়ী ও দোকান পাঠের আঙ্গিনা পরিস্কার করার জন্য। কিন্তু এতে নাগরিকদের কাছ থেকে তেমন সাড়া মিলেনি। উল্টো বাসা বাড়ীর আশপাশ, ড্রেনে অবাধে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে মশার বংশবিস্তার করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে নগরীর অভ্যন্তরে কিছু টিলা রয়েছে। এসব টিলায় মশা বাসা বাঁধে। সেসব স্থানে সিসিকও অভিযান পরিচালনা করতে পারেনা। এছাড়া বাউন্ডারি করা খালি প্লটগুলোতেও নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তুলেছে কিউলেক্স মশা। চলতি মওসুমে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে সিসিক অনেকটা সফল হলেও কিউলেক্স মশা নিধনে ব্যর্থ হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম বলেন, মশক নিধনে আমাদের অক্ষমতার কারণে মশার উৎপাত বেড়ে চলেছে। ২৭টি ওয়ার্ডের জন্য স্থায়ী জনবল নেই। দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে বছরে ওয়ার্ড ভিত্তিক ৯০ জনকে নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হয়। সিসিকের পক্ষ থেকে মশক নিধনের জন্য ঔষুধ পত্র ও ফগিং মেশিন দিয়ে থাকি। স্প্রে’র কাজ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলারগণ মনিটরিং করে থাকেন। তাই সঠিক স্থানে সঠিক সময়ে স্প্রে ফগিং মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এর বাস্তবতা আমরা দেখতে পারিনা। তবে শীতকালে সাধারণত মশার উৎপাত কিছুটা বেড়ে থাকে। তাই এই সময়গুলাতে আমরা অভিযান জোরদার করে থাকি। শীঘ্রই আমরা মশক নিধন কার্যক্রমে বড়সড় অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছি। প্রত্যাশা করছি ২/৩ মাসের মধ্যে নগরবাসী মশা নিধনের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, যে কোন কারণে যে কোন মওসুমে মশার বিস্তার বাড়লেও স্প্রে দিলে কমে যাওয়ার কথা। তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে এর বিস্তার বেড়েছে। এক্ষেত্রে সিসিকের ব্যর্থতার পাশাপাশি মানুষের অসচেতনতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। নগরীর প্রতিটি এলাকায় ময়লা আবর্জনাবাহী গাড়ী থাকার পরও কিছু মানুষ ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলে মশার প্রজনন কেন্দ্র তৈরী করে দিচ্ছেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন বর্ষা মৌসুমে মশা নিধন কার্যক্রমে যথেষ্ট ভূমিকা রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ কাজে ভাটা পড়েছে। সিটি করপোরেশনকে খাল, ডোবা পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে মশার বিস্তার আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারী পর্যন্ত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়াসিস ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।
Related News
সিলেটে ২ মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ভিডিও কলে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে টাকা দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র। নিখোঁজ দুইRead More
সিলেটে অনুমোদনহীন ৪ প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমায় অনুমোদনহীন সার্জিক্যাল পণ্য বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনারRead More



Comments are Closed