Main Menu

ওসমানী মেডিকেলে হামলার ঘটনায় দুই মামলা, ধর্মঘট অব্যাহত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই শিক্ষার্থীকে বহিরাগতদের মারধরের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ।

তিনি জানান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পৃথক দু’টি মামলার বাদীরা হলেন, মোহাম্মদ হানিফ ও মাহমুদুল রশিদ। মামলা দু’টিতে এজাহার নামীয় ৮ জন আসামী ছাড়াও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের এখনও গ্রেফতার করতে না পারায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইমার্জেন্সি ও হৃদরোগ ছাড়া তারা সকল বিভাগে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা। ফলে ওসমানী হাসপাতালে এখনও অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী (ইন্টার্ন চিকিৎসক) ইমন আহমদের সঙ্গে গত রোববার দুপুরে এক রোগীর দুই স্বজনের বাকবিতণ্ডা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এসময় ওই দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির মীমাংসা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার (১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র ইমন আহমদ (২৪) ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র নাথ (২২)-এর ওপর কলেজের পেছনে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সহপাঠীরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মঘটের ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা হাসপাতালের সব বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। এছাড়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ এবং রাত ১টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়াকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রায় ঘন্টাখানেক অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।

ধর্মঘট ও অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এ ছাড়া হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। রাত দেড়টায় হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে বসে বৈঠক। বৈঠকে রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। এসময় শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মেডিকেল প্রশাসনের মামলা করাসহ পাঁচ দাবি জানান। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট ও অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরতা। তবে এসময় তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য আজ (মঙ্গলবার) বেলা ২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে কলেজ, হাসপাতাল, পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

বৈঠকে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ৫ দাবি মেনে নিলেও হামলাকারী কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় আন্দোলন থেকে সরে আসেননি তারা। চিহ্নিত হামলকারী অন্তত ৩ জন গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শুধু ইমার্জেন্সি ও হৃদরোগ বিভাগে সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- নগরীর মুন্সিপাড়ার মৃত রানা আহমদের ছেলে সাঈদ হাসান রাব্বি (২৭) ও কাজলশাহ এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে এহসান আহমদ (২২)। এ দুজনই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত বলে জানা গেছে। এ দুজনের মধ্যে সাঈদ হাসান রাব্বি সিলেট মহানগরীর ৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন- এ দুজন হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন না। ‘আই ওয়াশের’ জন্য পুলিশ এ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারনামীয় কোনো আসামি এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাই তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। চিকিৎসাসেবা না দেওয়া ছাড়াও আজ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, সোমবার রাত ৮টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়। এতে মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র নাথ (২২) ও পঞ্চম বর্ষের নাঈমুর রহমান ইমন (২৪) আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে সব হামলাকারীর গ্রেফতার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজের সবধরনের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

তবে হাসপাতালের টিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাত দেড়টায় আলোচনায় বসেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মইনুল হক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। বৈঠক চলাকালে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed