Main Menu

বরাদ্দের বেশি গ্যাস বিক্রি, ১০ ফিলিং স্টেশন বন্ধ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাসিক বরাদ্দের চেয়ে বেশি গ্যাস বিক্রি করায় সিলেট নগরীর ২টি, হবিগঞ্জের ৪টি ও মৌলভীবাজারের ৪টি মিলিয়ে মোট ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড।

নির্ধারিত লোড শেষ হওয়ায় গত সপ্তাহে বন্ধ হয় মৌলভীবাজারের ৪টি সিএনজি স্টেশন। মঙ্গলবার সিলেট নগরীর ২টি পাম্প বন্ধ করে দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে একই কারণে হবিগঞ্জের ৮টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৪টিই বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক অভিযানে সিলেট নগরীর শিবগঞ্জস্থ সুরমা অটো কেয়ার সিএনজি স্টেশন ও সুবিদবাজারস্থ আহমদ সিএনজি ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেটের আরো কয়েকটি সিএনজি স্টেশন।

জানা গেছে, চলতি মাসের নির্ধারিত লোড শেষ হওয়ায় গত সপ্তাহে মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকার মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান, শহরের শমসেরনগর রোডের এমএফ ও রাজনগরের ডেলটা সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে রাজনগর উপজেলার একমাত্র ডেল্টা সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনটির বরাদ্দের পরিমাণ শেষ হওয়ায় ২২ জুলাই থেকে তারাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ শেষ হওয়ায় হবিগঞ্জের ৮টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪ টি বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলো হচ্ছে শায়েস্তাগঞ্জ সিএনজি ফিলিং স্টেশন, জিএস ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন, মাধবপুরের আল আমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও সুশান সিএনজি ফিলিং স্টেশন। চালু আছে মাধবপুরের সেমকো সিএনজি ফিলিং স্টেশন, নবীগঞ্জের আউশকান্দি সিএনজি অ্যান্ড রিফুয়েলিং স্টেশন, সদরে মেসার্স এম হাই অ্যান্ড কোং সিএনজি লিমিটেড ও বাহুবলে মেসার্স সিটকো সিএনজি লিমিটেড। যেসব স্টেশন চালু আছে তাতে দিনে হাজার হাজার যানবাহনের সারি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে, যানবাহনে সিএনজি গ্যাস ভরতে না পেয়ে তীব্র জ্বালানী সংকটে পড়েছে মৌলভীবাজারে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন। গত কয়েকদিন ধরে মৌলভীবাজার ও রাজনগর উপজেলায় প্রধান তিনটি সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় এই অবস্থা তৈরী হয়েছে। মৌলভীবাজারের গ্যাস পাম্প বন্ধ হওয়ায় ঐ এলাকার যানবাহনগুলো পাশাপাশি অন্য জেলার পাম্পে ভীড় করার কারণে লোড শেষের ঝুঁকিতে রয়েছে অন্যান্য পাম্পগুলো। সবগুলো সিএনজি স্টেশনে শতশত যানবাহনের লাইন দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘতর হচ্ছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার এক সাথে নগরীর ২টি সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাকী স্টেশগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে বাড়ছে লোড শেষ হওয়ার ঝুঁকি। আগস্টের ১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ হওয়া পাম্পগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে। ফের ১ আগস্ট থেকে ঐ মাসের লোড বরাদ্দ নিয়ে ফের চালু হবে বন্ধ হওয়া পাম্পগুলো।

এদিকে লোড শেষের দিকে থাকা পাম্পগুলো পড়েছে সঙ্কটে। একদিকে যানবাহনের চাপ অপরদিকে লোড শেষের ঝুঁকিতে বেকায়দায় পড়েছেন স্টেশন মালিক কর্তৃপক্ষ। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি লোড বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছেন তারা।

জানা গেছে, সিলেট বিভাগে বর্তমানে ৬০ টির মতো সিএনজি ফিলিং স্টেশন চালু রয়েছে। অনুমোদনের সময় প্রতিটি স্টেশনকে মাসের নির্দিষ্ট লোডের জন্য আবেদন করতে হয়। চালুর পর সেই আবেদন অনুসারে এখনও লোড বরাদ্দ দিচ্ছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

একাধিকবার মালিক পক্ষের আবেদন করা হলেও এব্যাপারে সরকারী নীতির কোন পরিবর্তন হয়নি। এদিকে দিন দিনি সিএনজি চালিত যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্টেশনগুলোতে চাপ বাড়ছে। কিন্তু লোড বৃদ্ধি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মালিক ও যানবাহন চালকগণ। এরমধ্যে বিকেল ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে পাম্পগুলোকে। এরপরও গ্যাসের চাপ সামাল দিতে পারছেনা পাম্প মালিকগণ। সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানী ও গ্যাসের সঙ্কট দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে।

এদিকে সরকারীভাবে সপ্তাহে একদিন সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। সিএনজি স্টেশন বন্ধ করলে এর প্রভাব পেট্রোল পাম্পের উপর পড়তে পারে সেই আশঙ্কা থেকে আপাতত সপ্তাহ জুড়েই স্টেশন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। তবে লোডের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা থাকায় জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষকে হার্ডলাইনে যেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান সিএনজি ফিলিং সেটশনটি ২০১২ সালে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৪০ কিউবিক মিটার বরাদ্দ নিয়ে ২০১৪ সালে যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ চালু করে। কিন্তু প্রতিবছরই যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় এই বরাদ্দে স্টেশন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের দাবি। বরাদ্দ বাড়াতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ বাড়ায়নি।

মেসার্স সাজ্জাদুর রহমান সিএনজি ফিলিং সেটশন এর প্রোপাইটর ইফতেখার আহমেদ জানান, ২০১২ সালে যে চুক্তি হয়েছিলো তা দিয়ে আমি ২০১৪ সালে স্টেশনটি চালু করি। ঐসময়ে যানবাহনের সংখ্যার জন্য এই বরাদ্দ সঠিক ছিল। এখন প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। যানবাহন কয়েকগুণ বেড়েছে। চাহিদাও প্রায় দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বরাদ্দ আরো বাড়ানোর জন্য আমি ২০১৫ সাল থেকে কিছুদিন পর পর আবেদন করছি কিন্তু বরাদ্দ বাড়ানো হয়না। ফলে গত ১৮ জুলাই গ্যাস বরাদ্দের পরিমাণ শেষ হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডের এমএফ সিএনজি ফিলিং স্টেশনটির বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৪৮ হাজার কিউবিক মিটার। তাঁদের বরাদ্দের পরিমাণ শেষ হওয়ায় ২০ জুলাই দুপুর থেকে তাঁরাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

স্টেশনের স্বত্তাধিকারী ফরহাদ আলী ইমন জানান, বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আমিসহ সিলেট বিভাগের সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনের মালিকগণ ৫শ’ টাকা দিয়ে ফরম কিনে আবেদন করেছি। পরবর্তীতে আমাদেরকে জানানো হয় বরাদ্দ বাড়ানো হবে না।

অন্যদিকে রাজনগর উপজেলার একমাত্র স্টেশন ডেলটা সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনটির বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৪০ কিউবিক মিটার। তাঁদেরও বরাদ্দের পরিমাণ শেষ হওয়ায় ২২ জুলাই সকাল ১১টা থেকে তাঁরাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, সিলেট বিভাগে জালালাবাদ গ্যাসের অধীনে আগে প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়ন গ্যাস বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে ২৬১ মিলিয়ন। তা দিয়েই চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি গ্যাস প্রয়োজন হয়। কারণ গ্যাস পাম্পের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শিল্পাঞ্চল। এ জেলায় হবিগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের অধীন গত জুন মাসে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫৪ ঘনমিটার গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed