Main Menu

গুলিবিদ্ধ জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মারা গেছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে দেশটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

এরআগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের নারা শহরে একটি সড়কের পাশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় অজ্ঞাত এক বন্দুকধারী তার ওপর গুলি চালায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। এ সময় সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় আবেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে (৪০) আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে শিনজো আবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার দলীয় এক কর্মকর্তা। পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নারা শহরে হামলার শিকার হওয়া স্থানের কাছাকাছি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিনজো আবে মারা যান।

সংবাদমাধ্যম বলছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ওপর গুলি চালানো হয়। এরপরই লুটিয়ে পড়েন শিনজো। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিবিসি বলছে, প্রচার কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেকে পেছন থেকে গুলি করা হয়েছিল।

পৃথক একটি জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৭ সালে দায়িত্ব নেন শিনজো আবে। তবে অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের আগস্টের শেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও এক বছর আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আবে।

৬৭ বছর বয়সী শিনজো আবে সেসময় জানিয়েছিলেন, তার আলসারেটিভ কোলাইটিস রয়েছে এবং নতুন ওষুধ ব্যবহার করে তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বহু বছর থেকে আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগে ভুগছিলেন।

২০১২ সালে আবারও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শিনজো আবে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করা জাপানি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ২০০৭ সালেও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগতে থাকায় হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত কৈশোর থেকেই এই রোগে ভুগছিলেন আবে।

প্রসঙ্গত, জাপানে বন্দুক সহিংসতার ঘটনা বেশ বিরল। কারণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে হ্যান্ডগান বা বন্দুক নিষিদ্ধ।

এদিকে, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার (৮ জুলাই) এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিনজো আবে আমার ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি বাংলাদেশেরও বন্ধু ছিলেন।

শিনজো আবের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, তার মৃত্যুতে জাপানের জনগণ এক অসাধারণ নেতাকে হারাল। একইসঙ্গে বাংলাদেশ হারাল তার একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং আবের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং জাপানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Share





Related News

Comments are Closed