আইনের বাইরে যাবো না: জাবি উপাচার্য
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষকদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণের বিষয়ে আইনের বাইরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ নূরুল আলম।
শুক্রবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অবসর আইন ২০১২ এর ৩ নং ধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধিবলী সংশোধন করে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে ৬৬ বছর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বর ও এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করা হয় এবং চলতি বছরের এপ্রিলে মেয়াদ বৃদ্ধির রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠি তার কাছে পৌছানো হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন তৎপরতার সমালোচনা করে অধ্যাপক আমির গণমাধ্যমকে বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১২’ অনুযায়ী সিনেট সভায় মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলে জেনেছি। তবে এ আইন মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্র প্রদত্ত সুবিধা হরণ করার জন্য নয়। এতে যা আছে সবকিছু কর্মক্ষেত্র, পেশা ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ক।’
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১২’ এর ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত, বলবৎ অন্য কোনো আইন, অধ্যাদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি, বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বয়স পূর্তিতে চাকরি হইতে অবসর গ্রহণ করিবেন।
অন্যদিকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সরকার ‘গণকর্মচারী অবসর আইন ১৯৭৪’ সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা গণকর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে একটি গেজেট জারি করে। এতে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর থেকে দুই বছর বৃদ্ধি করা হয় যদিও পরে তা কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।
আইনে বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন ধারায় বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক তাপস কুমার দাস বলেন, “দুই আইনে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বলাকে আইনের ভাষায় কম্পিটিং লস বা পরস্পর বিরোধী আইন বলে। এক্ষেত্রে ওভার রাইটিং ইফেক্ট বা অন্য আইনে যা কিছু বলা থাকুক না কেন সর্বশেষ আইনই প্রাধান্য পাবে। এখানে চাকুরির অবসরের বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অবসর আইন ২০১২ এবং সংশোধিত গণকর্মচারী দুই আইন ২০১০ এ স্পষ্টভাবে চাকরির অবসরের কথা বলা হয়েছে। তাই সর্বশেষ আইনই গ্রহণযোগ্য।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ নূরুল আলম বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অবসর আইন ২০১২ সালে পাশ হয় এবং সেখানে ৩ নং ধারায় অবসরের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আমরা আইনের বাইরে যাবো না।
এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর করোনার কারণে অনলাইনে মিটিং হয়েছে। আমরা অনেক কিছু জানতে পারি নি। কিন্তু আমাদের এখন নজরে আসছে, সে জন্য আমরা এটাকে সিন্ডিকেটে নিয়েছি। আমাদের এজেন্ডায় বিশেষভাবে কারো নাম বা পদবি সামনে আসে নি। আমরা আইনকেই প্রাধান্য দিয়েছি। সেখানে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে তা সিনেটে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।’
Related News
গাজীপুরে ৫ খুনে অভিযুক্ত সেই ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলাRead More
ঘরে সিগারেট জ্বালাচ্ছিলেন কালাম, আগুনে দগ্ধ ৫
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক বসতবাড়িতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একইRead More



Comments are Closed