Main Menu

মোবাইলে গেম খেলতে না দেয়ায় মাকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মোবাইল গেমের নেশা কত মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, নতুন করে তার সাক্ষী হলো একটি ঘটনা। গেম খেলতে বাধা দেয়ায় মাকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ ওঠেছে ১৬ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে। এমন কী খুনের ঘটনা চাপা দিতে মরদেহ দুদিন ধরে লুকিয়েও রাখে সে।

বুধবার (৮ জুন) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌতে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুন) সকালে মোবাইল গেম খেলা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তীব্র কথা কাটাকাটিতে জড়ায় ছেলে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মাকে শেষ করে ফেলার চিন্তাও আসে ওই কিশোরের মাথায়। বাবার লাইসেন্স করা রিভলভার বের করেই মায়ের দিকে তাক করে গুলি চালায় সে।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার কিছু সময় পর প্রাণ হারান ওই নারী। মা আর নেই বুঝতে পেরেই তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা শুরু করে ছেলে। পেশাদার খুনিদের মতোই মরদেহ বাড়ির এক প্রান্তে লুকিয়ে ফেলে সে। এরপর ৯ বছরের বোনের সঙ্গে অনায়াসেই কাটিয়ে দেয় দুই রাত।

মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে পারে। এ আশঙ্কায় রুম ফ্রেশনার অর্থাৎ সুগন্ধিও ব্যবহার করে সে। আর এ জন্য অনেকেই বিষয়টি টের পায়নি।

পুলিশ জানায়, ১৬ বছরের দাদা যে মাকে খুন করেছে, তা জানতে পেরে যায় বোন। কিন্তু হুমকি দিয়ে ছোট বোনের মুখ বন্ধ করে দেয় দাদা। হুমকি দিয়ে বলে, কাউকে খবর দিলে তার ফল ভালো হবে না।

তাদের বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত। বাবাকে মায়ের মৃত্যুর খবর দিতে ভুয়া গল্প বানায় সে। ওই ছেলে জানায়, এক ইলেকট্রিশিয়ান এসে তার মায়ের ওপর গুলি চালায়। পরে পুলিশকেও একই কথা বলে ওই ছেলে। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আসল ঘটনার সন্ধান পায়। তারপরই গ্রেফতার করা হয় তাকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শেষমেশ নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে ওই কিশোর।

লখনৌ থানার সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এসএম কাসিম আবিদি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি যেসব কথা বলেছে তার সঙ্গে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এমন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। বিস্মিত হয়েছে কিশোরের প্রতিবেশীরাও।

 

Share





Related News

Comments are Closed