Main Menu

সিলেটে বন্যার পানিতে পচলো কোটি কোটি টাকার ধান-চাল

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আটদিন দাপট দেখিয়ে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে ফেলে দিয়েছে অনেককে। এর মধ্যে ধান-চালের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন অপূরণীয় ক্ষতিতে। সিলেট নগরের সুরমা নদী তীরবর্তী ধান-চালের মিল ও আড়তে গুদামজাত করে রাখা কোটি টাকার ধান-চাল নষ্ট করেছে বন্যার পানি।

Manual1 Ad Code

সুরমার উত্তরপাড়ের নগরীর কাজিরবাজার ধান-চালের মিল ও আড়তে গিয়ে জানা যায়, গুদামগুলোর কোনো কোনোটায় ছিলো কোমর পানি। গুদামে রাখা সারি সারি ধান-চালের বস্তা ভিজে নষ্ট হয়েছে বন্যার পানিতে। গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় শনিবার (২১ মে) থেকে গুদামগুলো খুলতে শুরু করেন ব্যবসায়ীর। গুদামগুলো থেকে বেরিয়ে আসছে ধান-চালের পচা দুর্গন্ধ। মজুতকৃত ৫০ কেজির হাজার হাজার বস্তা চাল এবং ২ মন ওজনের ধানের বস্তার স্তুপ ভিজে পচন ধরেছে। কাজিরবাজারের প্রতিটি গুদামেই ঢুকেছিলো বন্যার পানি। আকস্মিক বন্যার কারণে আড়ৎদাররা ধান-চালের বস্তা সরানোর সময় পাননি। ধান-চালের পচা দুর্গন্ধে এখন ওই এলাকার বাতাস দুষিত হয়ে আছে। এমন অপূরণীয় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা কান্না করছেন।

Manual7 Ad Code

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কাজিরবাজার এলাকার মোস্তাক এন্ড ব্রাদার্স মিল, পদ্মা রাইস মিল, দয়া ও জামান মিল, রঙ্গেশ অটো রাইস মিল, এম এস অটো রাইস মিল, মতিন ব্রাদার্স, হাসান ব্রাদার্স ও ফাইয়ানসহ অনেক মিল এবং আড়তে হাজার হাজার বস্তা ধান-চাল রাখা ছিলো। সেই গুদামগুলোর নিচের অন্তত ৫ ফুট পর্যন্ত রাখা বস্তাগুলোর ধান-চাল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় সরকারকে পাশে না দাঁড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

Manual2 Ad Code

একই অবস্থা সুরমা তীরবর্তী আরেক এলাকা শেখঘাটে। সেখানেই রয়েছে অনেক ধান-চালের মিল ও আড়ৎ। শেখঘাটের এসএল অটো রাইসমিল ও মেসার্স জনতা ট্রেডার্সের পরিচালক আবদুল হামিদ বলেন, শেখঘাট এলাকাতে বেশ কয়েকটি অটো রাইসমিল রয়েছে। সকল মিলেই বন্যার পানি ঢুকেছিলো। এতে কয়েক কোটি টাকার ধান-চালের ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসার জোগাড়।

শেখঘাটের আড়ত ও অটো রাইসমিলগুলাে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও অটো রাইসমিল থেকে ভেজা চাল ও ধানের বস্তা বের করছেন। ওই এলাকাজুড়ে ধান-চালের পচা গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। গুদামগুলাের মধ্যে জমে থাকা পানিতে চাল পড়ে সেগুলাে থেকেই গন্ধ বের হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

সিলেটের কাজির বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আবদুল মালেক বলেন, কাজির বাজার ও শেখঘাট অংশে শতাধিক চালের ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি অটো রাইসমিল। চাল ব্যবসায়ীদের আলাদা গুদামও রয়েছে। গুদামে হাজার হাজার বস্তা চাল রাখা থাকে। সেগুলাে একসঙ্গে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নদীর পানি উপচে গুদাম ও রাইসমিলে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। সেই সঙ্গে উজান থেকে একের পর এক নামতে শুরু করে পাহাড়ি ঢল। ফলে ১১ মে থেকেই সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে। আর গত ১৩ মে থেকে সিলেট নগরের নীচু ও সুরমা তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হতে থাকে। ফলে ২০০৪ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয় সিলেটে। বর্তমানে পানি অর্ধেক কমে গেলেও নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মানুষ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসহীনতা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি জলমগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code