জকিগঞ্জে ডাইক ভেঙে প্রবল বেগে ঢুকছে পানি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারোঠাকুরী এলাকায় বরাক মোহনায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসস্থলের ডাইক (নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ) ভেঙে গেছে। ডাইকটি ভেঙে যাওয়ায় প্রবল বেগে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাইকটি স্রোতের তোড়ে ভেঙে গেছে, এমনটি জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বারোঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসীন মর্তুজা ডাইক ভাঙার খবর এলাকায় প্রচার করেন।
এ ভাঙনের ঘটনায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভারতের সীমান্তবর্তী বরাক নদের মোহনায় ডাইকটি ভেঙে গেছে। এর পর মুহূর্তেই জকিগঞ্জের ফিল্লাকান্দি, অমলশিদ, বারঠাকুরী, খাসিরচক, খাইরচক, বারোঘাট্টা, সোনাসারসহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে অমলশিদ যাতায়াতের রাস্তাটিও পানিতে ডুবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ আছে।
ডাইক ভেঙে পানি ঢুকতে থাকায় আগে থেকেই প্লাবিত উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বরাক নদ থেকে প্রবল বেগে পানি এখন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে ঢুকছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় ডাইকটি ভাঙতে ভাঙতে আজ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ডাইকের কমপক্ষে ৬০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সিলেট থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার দূরে জকিগঞ্জের অবস্থান। এটি জেলার সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা। ভারতের করিমগঞ্জ জেলার বরাক নদের দুটি শাখা হচ্ছে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। এদের মিলনস্থল হচ্ছে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকা। এই অমলশিদে একটি ডাইক আছে। বরাক থেকে পানি এসে প্রথমে সরাসরি এ ডাইকে আঘাত করে। এরপর পানি ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারায় প্রবাহিত হয়।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মাধ্যমেই মূলত সিলেট বিভাগের প্রায় ১০০টি নদ-নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এখন ডাইক ভেঙে যাওয়ায় পানি কোনো বাধা না পেয়ে তীব্র গতিতে সরাসরি সুরমা ও কুশিয়ারায় গিয়ে ঢুকছে। ফলে পুরো সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
জকিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব হোম দাস বলেন, ডাইকটি ভেঙে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। এতে নতুন করে উপজেলার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ডাইক ভেঙে যাওয়ায় সিলেটের অন্যান্য উপজেলায়ও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে।
Related News
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে গোলাপগঞ্জে বিক্ষোভ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সিলেটেরRead More
সিলেট-তামাবিল সড়কে গাড়ির ধাক্কায় চিতাবাঘের মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় একটি চিতাবাঘের মৃত্যুRead More



Comments are Closed