সাত বছরেও চালু হয়নি জাবির দুই হলের ডাইনিং
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বেগম সুফিয়া কামাল হল এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ডাইনিং প্রতিষ্ঠাকালের সাত বছর পরেও চালু হয়নি।
২০১৫ সাল থেকে বেগম সুফিয়া কামাল হলে এবং ২০১৭ সাল থেকে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ছাত্রীরা থাকতে শুরু করে। এতদিনেও এই দুই হলের ডাইনিং চালু না হওয়ায় ছাত্রীরা আছেন ভোগান্তিতে। অথচ, প্রায় একই সময়ে (২০১৭ সালে) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল স্থাপিত হলেও, এই হলের ডাইনিং বেশ কিছুদিন আগেই চালু হয়েছে।
ডাইনিং চালু না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। ক্যান্টিনের খাবারের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ছাত্রীকে বাধ্য হয়ে রান্না করে খেতে হচ্ছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে রমজান মাসে এ সমস্যার মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। ক্যান্টিনের খাবারের মান এবং পুষ্টিগুণ রোজা রাখার জন্য যথেষ্ট নয় বলে অনেক ছাত্রী অভিযোগও করেছেন।
হলে ডাইনিং না থাকায় বেগম সুফিয়া কামাল হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাইনিং বন্ধ থাকায় আমরা অনেক কষ্টে আছি। ক্যান্টিনের খাবারের মান ভালো নয় এবং তা রোজা থাকার জন্য যথেষ্টও নয়। ডাইনিং এ একটু বেশি দাম দিয়ে পুষ্টিকর ও পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারলেও ভালো হতো। অনেক হলেই এমন ব্যাবস্থা করা হয়েছে দেখলাম। সারাদিন ক্লাস করে রোজা রেখে ক্লান্ত হয়ে যাই। পরে আর রান্না করার ইচ্ছা হয় না। ডাইনিং চালু থাকলে এতো সমস্যার হয়তো সম্মুখীন হতাম না!’
বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেনকে ডাইনিং চালু না হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে ডাইনিং এর জন্য লোক চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন তা দেয় নি। রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সিন্ডিকেটে জনবল চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু জনবলের অনুমোদন পাই নি। প্রসাশন অনুমোদন দিলেই ডাইনিং চালু হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে তো ডাইনিং চলতই না। ছাত্র-ছাত্রীরা ডাইনিং এ খেত না। অনেক হলের ডাইনিং এ কর্মচারীরা ছিল, কিন্তু তাদের কোনো কাজ ছিল না। এটাও ডাইনিং অনুমোদন না দেওয়ার একটা কারণ হতে পারে।’
এবিষয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আগে ছাত্রীরা গণরুমে ছিল এবং সেখানে পড়াশোনা করতো। এখন ডাইনিং ফাকা আছে। ডাইনিং চালু করার জন্য টেবিল গার্ল এবং কাউন্টার্ন গার্ল লাগবে। তাদের নিয়োগের জন্য আমি চিঠি পাঠিয়েছি। ডাইনিং চালু করার জন্য ফাইলও পাঠিয়েছি। এখন আমরা একটা উত্তরণ কাল পার করছি। রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অনুমোদন দিবেন কিনা? অনুমোদন দিলেই এক সপ্তাহের মধ্যে ডাইনিং চালু করতে পারব।’
ডাইনিং চালু না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে কি ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিনই হলে যাই। শিক্ষার্থীসহ ক্যান্টিন স্টাফদের সাথে কথা বলি। ক্যান্টিন স্টাফদের প্রতিনিয়ত চাপে রাখি। ক্যান্টিনের খাবারের মান যথাসম্ভব উন্নত করার চেষ্টা করছি।’
এছাড়াও, ফজিলাতুন্নেছা হলে ক্যান্টিন চালু করায় ডাইনিং বন্ধ করা হয়েছে। ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। দুপুরের খাবার রাতে গরম করে পুনরায় দেওয়ার অভিযোগও আছে। এই হলেই কয়েকদিন আগে পঁচা ভাত দেওয়ায় ছাত্রীরা হলের সামনে প্রতিবাদমূলক মানববন্ধন করেছিল।
Related News
ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকেRead More
মাধবদীতে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : নরসিংদীর মাধবদীর রাইনাদী এলাকায় গভীর রাতে দুই বিঘা পুকুরে বিষ দিয়েRead More



Comments are Closed