জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী খুন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিআইডির একটি টিম ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় নিহত শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার (৩৫) ভাই বাদী হয়ে জিতেশ চন্দ্র গোপকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ শহরের পৌর পয়েন্টের একটি মার্কেটের অভি মেডিকেল নামের এক ফার্মেসি থেকে ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ছরুক মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তার তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বাসার নিকটবর্তী ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটে অভি মেডিকেল ফার্সেমিতে ওষুধ ক্রয়সূত্রে যাতায়াত করতেন। গত বুধবার বিকেলে ফার্মেসিতে যাচ্ছেন বলে বাসা থেকে বের হন শাহনাজ। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ।
এদিকে নিহতের ছোট ভাই তার বোন বাসায় ফেরেননি জানতে পেরে ওই ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। তখন ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান, তার বোন ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন।
নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নিহত নারী) সিলেট ওসমানী হাসপাতালে আছেন। সেখানে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
পরে আরেকবার ফোন দিলে একই নারী ফোন রিসিভ করে জানান, শহরের আর্ট স্কুল এলাকায় আছেন। এ রকম একেক সময় একেক কথা বলে বিভ্রান্ত করতে থাকেন ওই নারী। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে শাহনাজের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রাতভর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও নিহত শাহনাজের সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ তালাবদ্ধ অভি ফার্মেসির তালা ভেঙে দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় দোকানের রোগী দেখার টেবিলের নিচে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর শরীর ছয় টুকরা (গলা, পেট, হাত-পা) বিচ্ছিন্ন অংশ দেখতে পায় পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে ফার্মেসির মালিক জিতেশ গোপ ও তার পরিবার পলাতক ছিল। জিতেশ গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের যাদব গোপের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছেন।
নিহতের ছোট ভাই হেলাল মিয়া জানান, বুধবার তার বোন ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে কত টাকা তুলেছেন, তিনি তা জানেন না। তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যার বিচার চান।
হেলাল জানান, তার বোনজামাই দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বোনের পরিবারের সঙ্গে তিনি শহরে বসবাস করেন। নিহত নারীর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ওই ফার্মেসির সিলিং থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দিয়েই শাহনাজকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
Related News
ছাতকে সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে পৌরসভার ইজারা নেওয়া টোল আদায় করতে না পেরে বিপুলRead More
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: এক ফসলি বোরো ফসলের দেশ হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ। বৈশাখে বিস্তীর্ণ হাওরে বছরের একমাত্রRead More



Comments are Closed