Main Menu

‘নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, নতুন রেইট সিডিউলের দাবি’

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়, ভ্যাট-ট্যাক্স ইত্যাদির সাথে সমন্বয় করে করে নতুন রেইট সিডিউল নির্ধারণের দাবি করেছেন এলজিইডি ঠিকাদাররা। সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি আর কয়েক বছর আগের পুরনো রেইট সিডিউলের মধ্যে তুলনা করলে পরিষ্কার বুঝা যায় ঠিকাদাররা কতো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব কারণে সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার আশঙ্কা ও প্রকাশ করছে ঠিকাদারবৃন্দ।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারের একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্সরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন দাবি করেন সিলেট জেলা এলজিইডি কন্ট্রাকটর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে সরকারের যথাযথ ট্যাক্স, ভ্যাট প্রদানকারী, উন্নয়ন সহযোগী স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগকারী শতশত ঠিকাদারদের আর্থিক বিপর্যয় হতে উত্তরণের জন্য নির্মাণ সামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য ও পরিবহনব্যয় চলমান কাজের চুক্তিমূল্যের সাথে সমন্বয় করে সম্পাদিত কাজের বিল প্রদান এবং অবিলম্বে নতুন রেইট সিডিউল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়।

সকল ঠিকাদারদের পক্ষে শামীম আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়। ঠিকাদারা যার বাস্তবায়ন করে থাকেন। উন্নয়ের অন্যতম সহযোগী ঠিকাদাররাই আজ বহুমুখি সমস্যা-প্রতিকূলতায় বিপর্যস্ত। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত। উন্নয়ন কাজের প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, ইট, পাথর, বিটুমিন, বৈদ্যুতিক ও স্যানিটারি পণ্যের মূল্য এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে নির্মাণ সামগ্রীর পরিবহন ব্যয় পর্যায়ক্রমে শতকরা ২৫ থেকে ৫৫ ভাগ বেড়েছে। সম্পাদিত চুক্তিমূল্যে চলমান প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পন্ন করা দূরহ ও অসম্ভব। নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্পপুঁজি বিনিয়োগকারী শতশত ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতি ও ধার-দেনা দেউলিয়া হওয়ার পথে প্রায়। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রয়োজন।

অবিলম্বে সরকারের উচিত নির্মাণ সামগ্রীর বর্ধিত মূল্য হ্রাস করতে উদ্যোগ গ্রহণ, বর্ধিত মূল্যের সাথে সমন্বয় করে পুরনো রেইট সিডিউল বাতিল করে একটি বাস্তবিক রেইট সিডিউল নিধারণ করা।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘করোনা মহামারীর চরম ক্রান্তিকালেও সরকারের উন্নয়ন সহযোগী অংশীদার হিসাবে চলমান প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখে উন্নয়ন প্রক্রিয়া তরান্বিত করেছি। শ্রমিকদের প্রণোদনা প্রদানের আশ্বাস দিয়েও পরবর্তিতে সেটি প্রদান করা হয়নি। মানবিক কারণে নিজেদের আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে ভবিষ্যতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় শ্রমিকদের ভর্তুকি প্রদান করে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে কাজ বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় করোনা থেকে উত্তরণের পর যখন নতুন করে কাজ শুরু করি ঠিক তখনই বিভিন্ন অজুহাতে নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে নির্মাণ কাজের অন্যতম উপদান পাথর প্রাপ্তি নিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, বিভিন্ন কারণে স্থলবন্দরে পাথর আমদানী সাময়িক বন্ধ হলেও পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পাথরের মূল্য বৃদ্ধি করে অধিকমূল্যে ক্রয় করতে বাধ্য করেন। যা অমানবিক এবং দূরভিসন্ধিমূলক। এটি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতি অনুরোধ করেন ঠিকাদারবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রাখাল দে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত আহমদ মনিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

Share





Related News

Comments are Closed